উখিয়া-টেকনাফ সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশবোঝাই ট্রাক

উখিয়া-টেকনাফ সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশবোঝাই ট্রাক

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সড়কে ফের বেড়েছে অতিরিক্ত বাঁশবোঝাই ট্রাকের চলাচল। নির্ধারিত সীমার বাইরে বাঁশবোঝাই করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করা এসব ট্রাকের কারণে পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের মধ্যে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চলে এলেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে বাঁশের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এ সুযোগে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিবহন কাজে অতিরিক্ত বাঁশবোঝাই ট্রাক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এসব ট্রাকের চলাচল আবারো বেড়েছে।

চলতি মাসের ১৯শে আগস্ট উখিয়া-টেকনাফ সড়কে অতিরিক্ত বাঁশবোঝাই একটি ট্রাকের কারণে অল্পের জন্য একটি ব্যক্তিগত গাড়ি দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের অভিযোগ, ট্রাকগুলোতে এত বেশি বাঁশ রাখা হয় যে পাশ দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। এর আগেও এই সড়কে অতিরিক্ত বাঁশবোঝাই ট্রাকের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালের ১৬ই জুলাই উখিয়ার কাস্টম ঘাট এলাকায় একটি বাঁশবোঝাই ট্রাক উল্টে বাঁশের নিচে চাপা পড়ে রোহিঙ্গাসহ চারজন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে ২০১৯ সালের ২৭শে আগস্ট বালুখালী পানবাজার এলাকায় আরেকটি অতিরিক্ত বাঁশবোঝাই ট্রাক উল্টে যান চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি করে। এত দুর্ঘটনার পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের; বরং নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত বাঁশ পরিবহনের কারণে প্রতিনিয়ত বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

শাহপরী হাইওয়ে থানার ওসি আদিল আকবর বলেন, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ফারুক আহমেদের মৌখিক নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ফোর-হুইলার যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে না। ফলে বাঁশবোঝাই গাড়ির বিরুদ্ধেও আপাতত মামলা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। শুধু বাঁশের গাড়ি নয়, কোনো ফোর-হুইলারের বিরুদ্ধেই মামলা দেয়ার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি। এদিকে, অতিরিক্ত বাঁশ পরিবহনের পাশাপাশি উখিয়া স্টেশন থেকে পালংখালী পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে বনবিভাগের জমি ও সরকারি জায়গা দখল করে বাঁশ মজুতের পয়েন্ট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়কের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০টি বাঁশের ডিপো রয়েছে। এসব স্থানে বাঁশ মজুত করে পরে অতিরিক্ত বোঝাই ট্রাকে বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হয়।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান বলেন, এর আগেও বনবিভাগ কয়েকটি বাঁশের ডিপোতে অভিযান চালিয়েছে। বনবিভাগের জায়গায় থাকা বাঁশের ডিপোগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা সাদমান জামী চৌধুরী বলেন, কীসের বিনিময়ে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ককে অনিরাপদ করে তোলা হয়েছে, হাইওয়ে পুলিশের কাছে তার জবাব চাওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এবারের আন্দোলন হবে নিরাপদ কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক নিশ্চিত করার আন্দোলন। স্থানীয়দের প্রশ্ন একাধিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির পরও অতিরিক্ত বাঁশবোঝাই ট্রাকের চলাচল কীভাবে অব্যাহত রয়েছে? তাদের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেয়ার বদলে আগেই ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।