গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় আদা চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ভাতিজাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শনিবার দুপুরে র্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্পে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- নিপেন দাস খইলশা (৬১), শঙ্করাজ সেন ঠাকুর দাস (২৮), সত্য সেন ওরফে সত্য দাস (২১) ও শংকরী রানী (৫১)। নিহত আদা চন্দ্র দাস সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের দশলিয়া বেহারাপাড়া (রায়পাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, পারিবারিক বসতভিটার সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদা চন্দ্র দাসের সঙ্গে তার বড় ভাই নিপেন চন্দ্র দাসের বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত ৩রা জুলাই নিপেন চন্দ্র দাস বিরোধপূর্ণ জায়গায় একটি টয়লেট নির্মাণ শুরু করলে এ নিয়ে উভয় পরিবারের লোকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। পরদিন ৪ঠা জুলাই সকাল ১০টার দিকে পুনরায় নিপেন দাসকে টয়লেট নির্মাণ করতে নিষেধ করে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়। একইদিন দুপুরে আদা চন্দ্র দাস বাড়ির সামনে ছাগল চরাতে গেলে নিপেন চন্দ্র দাস ও তার দুই ছেলে শংরাজ ও সত্য দাসসহ পরিবারের অন্যান্য লোকজন তাকে ঘিরে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় আদা চন্দ্র দাসকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে গত ৪ঠা জুলাই সাদুল্লাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তখন থেকেই অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়। এ বিষয়ে র্যাব-১৩ ক্যাম্পের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিপিসি-৩, র্যাব-১৩, গাইবান্ধা এবং সিপিএসসি, র্যাব-১২, বগুড়ার যৌথ আভিযানিক দল শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান পরিচালনা করে। বগুড়া সদর থানাধীন নাটাইপাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাক বাসায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযুক্ত ওই চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
