চলে গেলেন হারুণার রশিদ খান মুন্নুর সহধর্মিণী হুরন নাহার

চলে গেলেন হারুণার রশিদ খান মুন্নুর সহধর্মিণী হুরন নাহার

ফন্ট সাইজ:

সাবেক মন্ত্রী, শিল্প বিপ্লবের অগ্রদূত মরহুম হারুণার রশিদ খান মুন্নুর সহধর্মিণী ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার মমতাময়ী মা “হুরন নাহার রশিদ” আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দুই কন্যা, তিন নাতি, দুই জামাতা ও আত্মীয়স্বজনের চোখের পানি আর হাজারো শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মুন্নু সিটির মসজিদের পাশে স্বামী হারুণার রশিদ খান মুন্নুর কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এই নারী। রোববার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

মাকে হারিয়ে কাঁদছেন বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ও ছোট বোন ফিরোজা পারভিন। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠে সেখানকার পরিবেশ। আদরের দুই নাতি রাশীদ মাইমুনুল ইসলাম ও রাশীদ সামিউল ইসলামও কাঁদছেন তাদের প্রিয় নানীকে হারানোর শোকে। শাশুড়ির মৃত্যুতে শোকাহত মরহুম হারুণার রশিদ খান মুন্নুর ছোট মেয়ের জামাতা দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও বড় মেয়ে আফরোজা খানম রিতার স্বামী মইনুল ইসলামও। হুরন নাহার রশিদের মৃত্যুর খবর মানিকগঞ্জে ছড়িয়ে পড়লে রোববার সকাল থেকেই বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মতো বিএনপি নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষের ভিড় জমে মুন্নু সিটিতে।

ছুটে আসেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মইনুল ইসলাম খান শান্ত, ঢাকা-২০ এর সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন, জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম, তাঁতীদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদসহ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ, মুন্নু গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা- কর্মচারীবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ ছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা থেকে মরদেহ আনার পর নারীদের জন্য দেখার ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এদিকে বাদ আসর মরহুমার নামাজে জানাজা হয় মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশাল মাঠে। জানাজায় অংশ নিতে জেলা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। এ সময় পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন আফরোজা খানম রিতার স্বামী মইনুল ইসলাম, মরহুম হারুণার রশিদ খান মুন্নুর দুই নাতি রাশীদ মাইমুনুল ইসলাম ও রাশীদ সামিউল ইসলাম। দুই নাতি আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলেন, নানা ভাই এবং নানু ভাই আমাদের অসম্ভব রকমের ভালোবাসতেন। ছোটবেলা থেকেই তাদের কোলে-পিঠে মানুষ হয়েছি। তাছাড়া আমার নানা মরহুম হারুণার রশিদ খান মুন্নুর সমস্ত খ্যাতি অর্জনের পেছনে আমার নানির অবদান অনস্বীকার্য।

এরপর হুরন নাহার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল হামিদ মরহুমার জানাজা নামাজ পড়ান। পরে মুন্নু সিটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় হুরন নাহার রশিদকে।

রিতার সফলতা দেখে গেলেন মা হুরন নাহার: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেয়ে আফরোজা খানম রিতার সফলতা দেখে গেলেন মমতাময়ী মা হুরন নাহার রশিদ। মায়ের অনেক স্বপ্ন ছিল তার স্বামীর মতো মেয়ে রিতাও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হবেন এবং দেশের সেবায় কাজ করে যাবেন। মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার মধ্যদিয়ে মায়ের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়ের পর রাতেই আফরোজা খানম রিতা তার বিজয়ের খবর নিয়ে ছুটে যান মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এসময় শয্যাশায়ী মাকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন রিতা। মা তখন মেয়েকে বুকে জড়িয়ে কপালে চুমু খেয়ে দোয়া করে দেন। মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হুরন নাহার রশিদের অবস্থার অবনতি হলে একদিন পরেই নেয়া হয় রাজধানী এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছিল। হঠাৎ অবস্থার অবনতি হলে শনিবার লাইভ সাপোর্টে রাখা হয়। রোববার ভোরে পরিবার-পরিজনকে কাঁদিয়ে চলে যান না ফেরার দেশে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন