পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগানোর ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তিনদিনেও মামলা না নেয়ায় নিহতের লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, মামলা নিতে গড়িমসি করার পাশাপাশি আপস-মীমাংসার জন্যও চাপ দেয়া হচ্ছিল। গতকাল বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের কাচারীপাড়া এলাকা থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে শতাধিক মানুষ লাশ নিয়ে সৈয়দপুর শহরে প্রবেশ করেন। পরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা সৈয়দপুর থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন এবং শেরে বাংলা সড়ক অবরোধ করেন। এতে সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের উভয়পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং থানা এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ এজাহার নথিভুক্ত করলেও বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোধ প্রত্যাহার করেননি। তারা ওসি’র অপসারণ দাবি করে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে থানা চত্বর ও আশপাশ এলাকায় এ পরিস্থিতি বিরাজ করে। সূত্রমতে, গত বুধবার ভোররাত ৪টার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারীপাড়ায় আফাজ উদ্দিনের (৬২) বড় ছেলে নুর হোসেনের নির্মাণাধীন বাড়িতে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেয়। তবে ঘটনার সময় নুর হোসেন সেখানে না থাকায় পুরনো বাড়িতে থাকা তার বাবা আফাজ উদ্দিন আগুনে দগ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে একইদিন ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শনিবার দুপুর ১টার দিকে তিনি মারা যান। নিহতের ছোট ছেলে আবু বকর সিদ্দিক অভিযোগ করে বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে গাছের ঝরা পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে একই ইউনিয়নের মাঝাপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুস সালাম চঞ্চলের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই সময় চঞ্চল তার বড় ভাইকে মারধর করে এবং মোবাইল ফোন ভেঙে দেয়।
তিনি দাবি করেন, সেই ঘটনার জের ধরে গত ৩রা জুন রাতে তারাগঞ্জ বাজারে তার ভাইকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরে প্রতিশোধ নিতে চঞ্চল ও তার পরিবারের সদস্যরা তার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মাণাধীন ঘরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। কিন্তু ঘটনাক্রমে ভাই সেখানে না থাকায় বৃদ্ধ বাবা এই নৃশংসতার শিকার হন। আবু বকর সিদ্দিক আরও বলেন, বাবা ঢাকার বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আমরা থানায় অভিযোগ দিলেও তিনদিনেও মামলা নেয়া হয়নি। উল্টো ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার চাপ দেয়া হয়েছে। বাধ্য হয়েই আমরা লাশ নিয়ে থানায় এসেছি। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই। অভিযোগের বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা বলেন, ঘটনার পর পরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত করেছে। তবে আহত ব্যক্তির চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ লিখিত অভিযোগ দিতে আসেননি। পরে একটি এজাহার জমা দেয়া হলেও তাতে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধনের পরামর্শ দেয়া হয়। তিনি বলেন, পুলিশ নিজেরাই এজাহার সংশোধন করে দিতে চাইলেও তারা রাজি হয়নি। ইতিমধ্যে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, পূর্বশত্রুতার জেরে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তাদের ভাষ্য, ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই এবং এ ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে বলেও তারা দাবি করেন।
