মেহেদির রং মোছার আগেই ভালোবেসে বিয়ে করা স্ত্রী ছামিনা আক্তার শাম্মী (২১)কে গলা কেটে হত্যা করেছে স্বামী সুজন আলী। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের শেখহাটি তমালতলা গ্রামে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, নেশার টাকা জোগাড় করতে সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর গলার চেইন নিয়ে বিক্রি করতে বাধা দেয়ায় নেশাগ্রস্ত সুজন নিজ ঘরের দরজা লাগিয়ে স্ত্রী শাম্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ডের পর সে নিজের শরীরে নিজে চাকু দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজা ভেঙে নিহত স্ত্রী শাম্মীর মৃতদেহ উদ্ধার করে। আর গুরুতর আহত সুজনকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
স্থানীয়রা বলছেন, নিহত ছামিনা আক্তার শাম্মী ও সুজন মামাতো-ফুপাতে ভাই-বোন। প্রেম-ভালোবাসার একপর্যায়ে চলতি বছরের ১৮ই জানুয়ারি পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। নিহত ছামিনা আক্তার শাম্মী যশোর শহরতলীর তরফ নোয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও যশোর পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের কর্মচারী বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম ও তসলিমা বেগমের একমাত্র কন্যা। তিনি এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত। অত্যন্ত মেধাবী ছামিনা আক্তার শাম্মীকে নিয়ে পিতামাতার স্বপ্নের শেষ ছিল না। কিন্তু কলেজে পড়ার সময় শাম্মী তার আপন ফুপাতো ভাই সুজনের প্রেমে পড়ে। সুজন টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তারা বর্তমানে শেখহাটি তমালতলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে। দীর্ঘদিন প্রেম ও ভালোবাসার পর গত ১৮ই জানুয়ারি তারা দু’জন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের কিছুদিন পরই নেশাখোর স্বামী সুজন শাম্মীর ওপর শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন শুরু করে। নেশার টাকার জন্য কারণে-অকারণে তিনি শাম্মীকে মারধর করতেন। মেয়ের সুখের জন্য পিতা শফিকুল ইসলাম ইতিমধ্যে জামাইকে মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন, হাতঘড়ি, সোনার চেইন, হাতের আংটি থেকে শুরু করে বহু মূল্যবান জিনিসপত্র দিয়েছেন। কিন্তু এই সব মূল্যবান জিনিসপত্র একমাত্র মেয়ের জীবনে শান্তি দিতে পারেনি। নেশাগ্রস্ত সুজন স্ত্রী শাম্মীকে সুখের বদলে প্রতিনিয়ত কষ্ট আর দুঃখ দিয়েছে। একপর্যায়ে তিনি নেশার টাকা জোগাড় করতে প্রায় সবই বিক্রি করেছেন। বাকি ছিল স্ত্রীর গলায় সোনার চেইন।
গতকাল ভোরে ঘুমন্ত স্ত্রীর গলা থেকে সোনার চেইন জোরপূর্বক খুলে নেয় সুজন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি। তখনো পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘুমাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে এ ঘটনা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল গণ্ডগোল শুরু হলে সুজন ঘরের দরজা লাগিয়ে স্ত্রীকে খাটের উপর শুইয়ে ধারালো চাকু দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে।
যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শোয়ার ঘরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রী ছামিনা আক্তার শাম্মীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে এবং একপর্যায়ে তাকে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে নেশাগ্রস্ত সুজন ওই চাকু দিয়ে নিজের শরীরেও বেশ কয়েকটি আঘাত করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
এ সময় তার শরীর থেকেও প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। গুরুতর আহত সুজনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে আটক দেখানো হয়েছে। নিহত স্ত্রী শাম্মীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা দেয়নি। এদিকে, এ ঘটনায় এলাকাবাসী সন্ত্রাসী নেশাগ্রস্ত সুজন ও তার পরিবারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে।
