ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নির্বিচারে হামলা এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন সংগঠন। গতকাল বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট এবং পুরানা পল্টনে পৃথক পৃথক এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত সমাবেশ করে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে।
মহানগর আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- দলের নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, প্রচার সেক্রেটারি এডভোকেট মতিউর রহমান আকন, মহানগর উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন প্রমুখ।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ইরান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। যারা ইসলামের উত্থান সহ্য করতে পারে না, তারা ইসরাইলকে ব্যবহার করে ইরানকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অতীতে ইরানের পার্লামেন্টে হামলা, অর্থনৈতিক অবরোধসহ নানা ষড়যন্ত্রের পরও দেশটির অগ্রযাত্রা থামানো যায়নি।
তিনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানান।
জাতিসংঘের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত জাতিসংঘ যদি প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর পক্ষাবলম্বন করে, তবে বিশ্ববাসীর মধ্যে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তিনি জাতিসংঘ ও ওআইসিকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, ইরানে হামলার পেছনে কেবল ইসরাইল নয়, আরও শক্তিধর রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা বাড়াতে পারে। তিনি ছোট-বড় সব রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন সমানভাবে প্রযোজ্য করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিজয়নগর ও কাকরাইল হয়ে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
ওদিকে ইসলামী আন্দোলনের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ইরান একটি স্বাধীন-স্বার্বভৌম দেশ। সেই দেশের প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নিজ বাসভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে হত্যা করা প্রতিষ্ঠিত বিশ্বব্যবস্থার প্রতি স্পষ্ট উপেক্ষা ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ইসলামী আন্দোলন এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ইরান একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। সেই দেশের প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। এমন ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই বৈধতা পেতে পারে না।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুইদিনের সামরিক উত্তেজনা ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যকে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, এবং এর প্রভাবে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সংঘাত গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে বিশ্ব জুড়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি করছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্ব শান্তি রক্ষায় জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে এবং সারা বিশ্বে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
