ওবায়দুল্লাহকে ৭ টুকরো করে রুমমেট শাহীন

ওবায়দুল্লাহকে ৭ টুকরো করে রুমমেট শাহীন

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম, কমলাপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নিহত মো. ওবায়দুল্লাহ’র রুমমেট মো. শাহীন আলমকে আটক করেছে পুলিশ। শাহীনের দেয়া তথ্যমতেই মাতুয়াইল ময়লার ভাগাড়, আমিন বাজারের সালেহপুর ব্রিজের নিচসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ওবায়দুল্লাহ’র শরীরের বাকি অংশ ও হত্যার কাজে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন হত্যার কথা স্বীকার করে বলেছে- নিজেদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে সে। আর হত্যার পর লাশ ৭ টুকরো করে কালো পলিথিনে মুড়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ফেলে দেয়। গতকাল মিন্টু রোডস্থ ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশীদ।

ডিসি বলেন, শুক্রবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে পল্টন এলাকা থেকে প্রথমে একটি খণ্ডিত পা উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বায়তুল মোকাররমের স্টেডিয়াম সংলগ্ন গেটের পাশ থেকে খণ্ডিত দুইটি পূর্ণাঙ্গ হাত উদ্ধার করা হয়। এরপর একইদিনে দুপুর ২টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে আরেকটি পা উদ্ধার হয়। এর মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলো মো. ওবায়দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির। তার বাড়ি নরসিংদী শিবপুর উপজেলার সাধারচর গ্রামে। তিনি পল্টনের একটি হোমিও ক্লিনিকের মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন। এরপর খণ্ডিত দেহাংশগুলো উদ্ধার হওয়া ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শাহীনকে শনাক্ত করা হয়। শনাক্তের পর শনিবার দুপুর ৩টার দিকে মতিঝিল এলাকার হিরাঝিল হোটেলের সামনে অভিযান চালিয়ে শাহীনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তার দেখানো তথ্য মতে কবি জসীমউদ্দীন রোডের ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, নিহত ওবায়দুল্লাহর মোবাইল ফোন এবং লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত সাইকেল উদ্ধার করা হয়। এরপর লাশের বাকি অংশ উদ্ধারের জন্য শাহীনকে নিয়ে অভিযানে নামে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাত ১১টার দিকে মাতুয়াইল ময়লার ভাগাড় থেকে নিহত ওবায়দুল্লাহর খণ্ডিত মাথা ও পরদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমিন বাজারের সালেহপুর ব্রিজের নিচ থেকে কোমরের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়।
হারুন-অর-রশীদ বলেন, ঘাতক শাহীন তিন মাস আগে হবিগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে প্রথমে গুলিস্তানের একটি হোটেলে কাজ নেয়। সেখানে ২০ দিন কাজ করার পর বেতন কম হওয়ায় সে ওই চাকরিটি ছেড়ে দেয়। এরপর বাল্যবন্ধু মারুফের কমলাপুরের বাসায় ওঠে। মারুফের সঙ্গেই এক রুমে থাকতো ওবায়দুল্লাহ। মারুফ নিজ বাড়ি হবিগঞ্জে চলে গেলে শাহীন গত দুই মাস ধরে ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে এক রুমে থাকতো। একইসঙ্গে মতিঝিলের হিরাঝিল হোটেলে কাজ নেয়। গত ২৭শে ফেব্রুয়ারি শাহীন হিরাঝিল হোটেল থেকে বাসায় ফেরার পথে ওবায়দুল্লাহ ফোন করে তাকে সিগারেট আনতে বলে। শাহীন টাকা নেই বললে ওবায়দুল্লাহ তাকে টাকা দেয় এবং সে সিগারেট এনে দেয়। কিছুক্ষণ পর ওবায়দুল্লাহ তাকে দিয়ে আবারো রুটি ও কাবাব আনতে বলে। রমজান মাসে ইফতারের পর ছয়তলা থেকে বারবার নিচে নামায় শাহীন বিরক্তি বোধ করে। এ ছাড়াও ওবায়দুল্লাহ বিভিন্ন সময় শাহীনকে কুপ্রস্তাব দেয়াতেও তার প্রতি বিরক্ত ছিল শাহীন। এসব নিয়ে আগে থেকেই ক্ষোভ জমে ছিল শাহীনের। সিগারেট ও খাবার আনতে বারবার নিচে যেতে বলার পর ওই রাতে শাহীন যখন ঘুমানোর চেষ্টা করছিল তখন ওবায়দুল্লাহ উচ্চস্বরে ফোনে কথা বলছিল। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে শাহীন ওবায়দুল্লাহকে রান্নাঘর থেকে চাপাতি এনে আঘাত করে হত্যা করে। ধারালো চাপাতির আঘাতে ওবায়দুল্লাহর মৃত্যু হলে শাহীন লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে একে একে ৭ টুকরো করে বালতি ও কালো পলিথিনে মুড়ে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেয়। আর এই কাজে সে যেই সিএনজিচালকের সহযোগিতা নিয়েছে তাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিএনজিচালক যখন শাহীনের কাছে জিজ্ঞেস করে বালতিতে কি, তখন সে বলে- বালতিতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক রয়েছে। ডিসি বলেন, আমরা এই ঘটনায় এখনো তদন্ত করছি, এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন