সারের মজুত কমছে, প্রভাব পড়ছে মাঠে

সহযোগীদের খবর

সারের মজুত কমছে, প্রভাব পড়ছে মাঠে

ফন্ট সাইজ:

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘সারের মজুত কমছে, প্রভাব পড়ছে মাঠে’। খবরে বলা হয়, দেশে সারের মজুত ধীরে ধীরে কমছে। গুরুত্বপূর্ণ তিন ধরনের নন-ইউরিয়া সার যেমন ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি), ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ও মিউরেট অব পটাশের (এমওপি) মজুত এরই মধ্যে নিরাপদ সীমার নিচে নেমে গেছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সূত্র জানায়, ডিএপির ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। আমন মৌসুমে এসব সারের চাহিদা বাড়ছে। এরই মধ্যে ডিএপি সার সংকটের আশঙ্কায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে গত ২৬ জুলাই কৃষি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বিএডিসি।

বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষকরা চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। কোথাও কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিতে ৫ থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতেও নন-ইউরিয়া সার আমদানির জন্য সরকার এখনও ক্রয়-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেনি। পরিপত্র জারির পর এলসি খোলা, জাহাজে সার তোলা এবং দেশে পৌঁছাতে সাধারণত দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে। ফলে এখন আমদানির উদ্যোগ নিলেও নতুন সার দেশে পৌছাতে অক্টোবর বা নভেম্বর লাগতে পারে। এতে আমনের পরবর্তী পর্যায় এবং শীতকালীন ফসলের মৌসুমে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরির শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের ঝুঁকি। বিশ্বের বড় সার রপ্তানিকারক চীন গত মার্চে অভ্যন্তরীণ কৃষকদের জন্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সার রপ্তানি বন্ধের নির্দেশ দেয়। সেই নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল। বাংলাদেশ ডিএপি আমদানিতে চীনের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। ফলে চীনের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে বিকল্প উৎস থেকে সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ইরান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও সার বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমদানি করা ইউরিয়া সার নিয়ে উদ্বেগ বেশি। বাংলাদেশ সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইউরিয়া আমদানি করে। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে ওই অঞ্চল থেকে সার পরিবহন ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে ইউরিয়ার দাম বেড়ে বাংলাদেশের সার সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সামান্য পরিবর্তনও বাংলাদেশের সার আমদানিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বিএডিসির চিঠি

ডিএপি সারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে গত ২৬ জুলাই কৃষি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বিএডিসি। চিঠিতে বিএডিসি জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সারের ভরা মৌসুমে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চুক্তির আওতায় থাকা নিশ্চিত দুই লটের পাশাপাশি আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রতি মাসে অতিরিক্ত দুই লট ডিএপি আমদানি করা জরুরি। তা না হলে সময়মতো চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করা কঠিন হবে।

বিএডিসি জিটুজি চুক্তির আওতায় সৌদি আরব, মরক্কো ও চীন থেকে ডিএপি আমদানি করে। সৌদি আরবের সঙ্গে ছয় লাখ টন, মরক্কোর সঙ্গে চার লাখ ৫০ হাজার টন এবং চীনের সঙ্গে দুই লাখ ৮০ হাজার টন সরবরাহের চুক্তি রয়েছে। তবে যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগরের পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরব থেকে আমদানি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চীনও সার রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

বিএডিসি চিঠিতে জানিয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাতটি লট ডিএপি আমদানির কথা থাকলেও এসেছে মাত্র একটি। আরেকটি লটের কার্যক্রম শেষ হলেও লোহিত সাগরের পরিস্থিতিতে সেটিও অনিশ্চিত। আগস্টে সৌদি কোম্পানি মা'আদেন সার সরবরাহ করতে পারবে না বলে জানিয়েছে।

প্রথম আলো

‘গ্যাসের অভাবে শতাধিক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটে ভুগছে দেশের গ্যাসনির্ভর ছোট-বড় সব কারখানা। ইতিমধ্যে নিত্যপণ্যসহ ওষুধ, সিরামিক, ইস্পাতসহ গ্যাসনির্ভর প্রায় সব কারখানায় উৎপাদন কমেছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও চট্টগ্রাম এলাকার কারখানাগুলো।

এদিকে ওষুধ, ইস্পাত, হিমাগার খাতের কিছু কারখানা বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালু রেখেছে। এতে তাদের ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।

গতকাল শনিবার নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, সাভার, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও খুলনা এলাকায় বিভিন্ন শিল্পকারখানার তথ্য নিয়েছে প্রথম আলো। দেশের বেশির ভাগ উৎপাদনমুখী বড় শিল্পকারখানা এসব এলাকায় অবস্থিত।

জানা গেছে, গ্যাস–সংকটের কারণে গত এক সপ্তাহে এসব অঞ্চলে ১০০টির বেশি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ নিত্যপণ্যের কারখানা। বন্ধ হওয়া কারখানার মধ্যে বড় শিল্পগোষ্ঠীর কারখানাই অর্ধশতাধিক। এ ছাড়া বন্ধ না হলেও উল্লেখযোগ্য হারে উৎপাদন কমেছে দেড় শতাধিক কারখানায়।

শিল্পমালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে প্রায় এক মাস ধরে গ্যাসের বেশি সরবরাহ–সংকট রয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে এই সংকট তীব্র হয়েছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কারখানায় শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রেখে বসে থাকতে হচ্ছে।

এদিকে টানা ২৫ দিন তীব্র সংকটের পর গতকাল কিছুটা স্বস্তি এসেছে গ্যাস সরবরাহে। এলএনজি সরবরাহের টার্মিনাল সামিট পুরোদমে ও এক্সিলারেট এনার্জি আংশিক চালু হয়েছে। এতে ভোর ৪টা থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করে। যদিও গ্যাসের সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

চাপ কিছুটা বাড়লেই আবার উৎপাদন শুরু করছে তারা। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন আরও ব্যাহত হতে পারে। যদিও গতকাল গ্যাসের সরবরাহ সামান্য বেড়েছে বলে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে।

নিত্যপণ্যের অর্ধশত কারখানা বন্ধ

নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম এলাকায় চিনি, গম, ভোজ্যতেল ও ডালসহ নিত্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতের শতাধিক কারখানা রয়েছে। গ্যাস–সংকটের কারণে এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক কারখানাই সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে। যেগুলো চালু রয়েছে, তারাও সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম উৎপাদন করতে পারছে।

দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি কারখানায় উৎপাদন বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল বিকেল পর্যন্ত মেঘনা গ্রুপের মালিকানাধীন ৫৭টি কারখানার মধ্যে ৪০টির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এর একটি বড় অংশ নিত্যপণ্যের। বাকি যে কারখানাগুলো চালু আছে, সেগুলোতে ছোটখাটো পণ্য বা স্বল্প পরিমাণে উৎপাদন হচ্ছে।

আরেক বড় শিল্পগোষ্ঠী টি কে গ্রুপের ২৮টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রুপের পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা হায়দার। তিনি জানান, ঢাকার আশপাশের গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলোর মধ্যে মাত্র একটিতে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালু রয়েছে; বাকিগুলো একেবারে বন্ধ। বন্ধ কারখানাগুলোর বেশির ভাগই নিত্যপণ্যের।

দেশের উত্তরাঞ্চল এবং যশোর ও খুলনা অঞ্চলেও টি কে গ্রুপের বেশ কিছু কারখানা রয়েছে। এগুলো বিদ্যুৎনির্ভর। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে এগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এসব স্থানে দিনে ৮ থেকে ১০ বার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানান মোস্তফা হায়দার।

দেশের আরেক শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী এসিআই লিমিটেডের বিভিন্ন কারখানায় সামগ্রিক উৎপাদন কমেছে। ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের বেশ কয়েকটি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে লবণ কারখানা, বন্দর এলাকায় আটা-ময়দা ও ওষুধ তৈরির কারখানা এবং গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও টঙ্গীতে ন্যাপকিন, ডায়াপার, বিভিন্ন কৃষি উপকরণ, মোটরসাইকেল সংযোজন ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরি করে কোম্পানিটি। সব কারখানাতেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে নেমে গেছে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘পদোন্নতির প্রস্তাবে বিতর্ক’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পদোন্নতি পাওয়া ২৮ ও ২৯তম বিসিএস-এর ৯২ কর্মকর্তা এখনো নিয়মিত পদায়ন পাননি। দীর্ঘদিন তারা চরম হতাশায় রয়েছেন। তাদের বাদ দিয়ে জুনিয়র ব্যাচের (৩০তম) কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের পদোন্নতির প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে সুপারনিউমারারি এসপিদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, জুনিয়রদের আগে পদায়ন দেওয়া হলে বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়বে এবং নজিরবিহীনভাবে সিনিয়রদের (জ্যেষ্ঠ) জুনিয়রের অধীনে কাজ করতে হবে।

যদিও বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরি করছে পুলিশ সদর দপ্তর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়টি ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের প্রশ্ন করাটাও অনুচিত। এটি শুধু মিথ্যা নয়, চরম মিথ্যা ও ভুয়া।

পদোন্নতির প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পুলিশের মুখপাত্র এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, এটি সঠিক নয়। তবে সিনিয়রদের টপকে ৩০তম ব্যাচের পদোন্নতির প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে যুগান্তর। প্রস্তাবটি আমলে না নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে আগে ২৮ ও ২৯তম ব্যাচকে সমন্বয় করার পরই পরবর্তী পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২৮তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ২৫ জন কর্মকর্তা ২০২২ সালে পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পদোন্নতি পান। পরে ২০২৩ সালের নভেম্বরে একই ব্যাচের আরও ১০৩ জনসহ অন্যান্য ব্যাচ মিলিয়ে ১৫০ জন কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে শূন্য পদের বিপরীতে ৮০ জন কর্মকর্তার নিয়মিত পদায়ন হলেও এখনো ২৮তম বিসিএস-এর প্রায় ৬০ জন কর্মকর্তা সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার হিসাবে রয়ে গেছেন। তারা নিয়মিত পদায়নের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। সব মিলিয়ে ২৮তম ও ২৯তম বিসিএস-এর প্রায় ৯২ জন পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এখনো নিয়মিত পদায়ন পাননি। এ অবস্থায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদায়ন ঝুলিয়ে রেখে জুনিয়র ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদায়নের জন্য বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর খবর প্রকাশ হতেই জ্যেষ্ঠ ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম হতাশা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা করণীয় নির্ধারণে ইতোমধ্যে নিজেদের মধ্যে বৈঠকও করেছেন।

বিসিএস (পুলিশ) ২৯তম ব্যাচের একজন সুপারনিউমারারি এসপি যুগান্তরকে বলেন, প্রায় তিন বছর সুপারনিউমারারি এসপি পদে আছি। আমাদের বাদ দিয়ে জুনিয়রদের পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা স্বাভাবিক পদায়নের অপেক্ষায় দিন গুনছি। এরপরও যদি আমাদের বাদ রেখে জুনিয়রদের পদোন্নতি দিয়ে তাদের রেগুলার এসপি করা হয়, তাহলে চাকরির স্বাভাবিক গতি নষ্ট হয়ে যাবে।

কমান্ড কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা: ২৮তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তারা ডিসেম্বরে চাকরিকালের ১৭ বছরে পদার্পণ করবেন। দীর্ঘ চাকরিকাল, ব্যাচভিত্তিক জ্যেষ্ঠতা এবং ইতোমধ্যে পদোন্নতি পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শূন্য পদের বিপরীতে পদায়নের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার পাওয়া শতভাগ যৌক্তিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশঙ্কা, ২৮ ও ২৯তম ব্যাচকে টপকে ৩০তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হলে একটি নজিরবিহীন ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। সেক্ষেত্রে ৩০তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা পদায়ন পেয়ে পূর্ণাঙ্গ এসপি হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন, আর তার অধীনেই ২৮তম ও ২৯তম ব্যাচের সুপারনিউমারারি পদোন্নতি পাওয়া জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অপেক্ষাকৃত নিম্নপদ ‘অতিরিক্ত পুলিশ সুপার’ হিসাবে কাজ করতে বাধ্য হবেন। এটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও কমান্ড কাঠামোর সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

২৮তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা বলেন, এটি গোটা বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ও জ্যেষ্ঠতা কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত। জ্যেষ্ঠ ব্যাচের যোগ্য কর্মকর্তাদের পদায়ন নিশ্চিত করার পরেই কেবল পরবর্তী ব্যাচকে বিবেচনা করা উচিত। তা না হলে বাহিনীতে অসন্তোষ ও সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব হবে না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের অবস্থান : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলে এ শূন্য পদের বিপরীতে ২৮তম বিসিএস-এর ২৭ জন সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপারের পদায়ন প্রস্তাব পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে ওই প্রস্তাবে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে কয়েকজন কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় মন্ত্রণালয় ব্যাখ্যা চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠায়। কিন্তু আজও সেই চিঠির কোনো জবাব দেয়নি পুলিশ সদর দপ্তর।

কালের কণ্ঠ

‘অর্জনের সঙ্গে আছে চ্যালেঞ্জও’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

অর্থনৈতিক সংকট, দুর্বল ব্যাংক খাত, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অনিয়ন্ত্রিত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শুরু হয় বিএনপি সরকারের যাত্রা।

এত সব নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি নিজে ছুটছেন ‘রকেট’ গতিতে। ছুটছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, নিজে কোদাল হাতে খাল খনন, বৃক্ষরোপণ করে দেশের মানুষকে উৎসাহ দিয়ে চলেছেন।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিনিয়ত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। হাতে গোনা দু-এক দিন ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ছুটির দিনেও প্রশাসনিক কাজ অব্যাহত রেখেছেন, যা দেশের মানুষকে নতুন করে উজ্জীবিত করছে। আবার বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরেছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

তবে সময়ের সদ্ব্যবহার করতে হবে। কারণ বিপুল জনপ্রিয়তায় নির্বাচিত সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি তার রাজনৈতিক ম্যান্ডেট। সেই ম্যান্ডেটের জায়গা থেকে সিদ্ধান্তহীনতা বা অতিরিক্ত দোলাচল দীর্ঘায়িত হলে মানুষের প্রত্যাশা একসময় হতাশায় পরিণত হতে পারে। এই সরকারকে এখন আরো সিদ্ধান্তমূলক অবস্থান নিতে হবে। জ্বালানি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে পেশাদারি জরুরি।

গত ছয় মাসে সরকারের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারের প্রথম ছয় মাসকে কোনোভাবেই নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। বরং সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে জরুরি কিছু সেবা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড থেকে শুরু করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র, প্রান্তিক, নারী ও পুরুষ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি একটি ‘গুড সাইন’। এ ছাড়া কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, খাদ্য মজুদ বৃদ্ধি, তরুণ উদ্যোক্তাদের ঋণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে নতুন কর্মসূচি, বিদেশি বিনিয়োগে উদ্যোগসহ নানা কর্মসূচি সরকারের সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাড়ে তিন মাসের মাথায় বাজেট ঘোষণা এবং সেটিকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার কাছাকাছি রাখার চেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরাসরি করের চাপ না বাড়িয়ে সমাজের প্রান্তিক মানুষের জন্য এই বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার মতো বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবে।

সরকারের আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো কাজের সংস্কৃতি তৈরির চেষ্টা। প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভা থেকে প্রতিদিনের কাজে সততা ও জবাবদিহির একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং তাদের কথা শোনার রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলারও চেষ্টা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জগুলোও সামনে আনছেন। তাঁরা বলছেন, সরকার এখনো মানুষের সব উদ্বেগে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি। জ্বালানিসংকট, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে অস্বস্তি রয়ে গেছে। অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক সূচক থাকলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

বিশেষ করে প্রশাসনে বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটেছে—এমনটা এখনো দৃশ্যমান হয়নি। ফলে প্রশাসনে এক ধরনের স্থবিরতা, অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছা থাকলেই হবে না; এই সদিচ্ছা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে কার্যকর করার সক্ষমতাও অর্জন করতে হবে।

জানতে চাইলে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকার ছয় মাসে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে চেষ্টা করেছে। সামাজিক সুরক্ষা খাতে, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে জরুরিভাবে মানুষকে বেশ কিছু সেবা দেওয়ার দরকার ছিল। তা কিন্তু সফলভাবে করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড থেকে শুরু করে সামাজিক সুরক্ষায় কার্যকরী উদ্যোগগুলো ইতিবাচক।’

তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মাথায় বাজেট ঘোষণা করা অনেক বড় ব্যাপার।’ তিনি আরো বলেন, ‘জ্বালানিসংকট, দ্রব্যমূল্য, এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। মানুষের নিরাপত্তাসংকট এখনো আছে।’

ইত্তেফাক

‘লাখো শিক্ষার্থীর ঝরে পড়ার নেপথ্যে স্কুলের বেআইনি সিদ্ধান্ত!’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দুই বছর আগে নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত হয়েও এবার এসএসসি ও সমমানের ফরম পূরণের সময় প্রায় সাড়ে চার লাখের বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার নেপথ্যে ভয়ংকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তাদের অনেকে পাশ করেছিল নির্বাচনি বা টেস্ট পরীক্ষায়। তবে নম্বর তুলনামূলক কম পাওয়ায় এসএসসি চূড়ান্ত ফরম পূরণের সুযোগ দেয়নি একশ্রেণির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। জিপিএ-৫ ও পাশের সুনাম টিকিয়ে রাখতে অনেক নামিদামি প্রতিষ্ঠানও এই বেআইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি টেস্ট পরীক্ষায় মাত্র একটি বিষয়ে ১০০-এর মধ্যে ৭০ নম্বর এবং বাকি সব বিষয়ে জিপিএ-৫ নম্বর পেয়েও চূড়ান্ত ফরম পূরণ করা থেকে বঞ্চিত হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম নয়। গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এসব অভিযোগ সামনে আসে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। অনিয়মের সত্যতা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে অভিযুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। জানা গেছে, এবারের শতভাগ পাশ ৬৬৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করবে বোর্ড। আর এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল, রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণের যাবতীয় নথি যাচাই করা হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, নবম শ্রেণিতে নিবন্ধন করেও এসএসসি পরীক্ষায় বিপুল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ না করার কারণ খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে। তিনি বলেন, ৩১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবার একজন শিক্ষার্থীও কেন পাশ করেনি, তা জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশ আজ রবিবার বোর্ড থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো শুরু হবে। এরপর শতভাগ পাশ ৬৬৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। যারা এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি, তারা কোথায় গেছে, কেন পরীক্ষায় অংশ নিল না, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কোন অব্যবস্থাপনা ছিল না—সবকিছু খুঁজে বের করা হবে। প্রসঙ্গত, গত বছর শতভাগ পাশ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৯৮৪টি। এসব প্রতিষ্ঠানের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

১১ শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে মোট ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। তবে এদের মধ্যে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শেষ পর্যন্ত ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫১১ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে নবমে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২ লাখ ২৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেনি। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে বাকি প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার শিক্ষার্থী নবমে নিবন্ধিত হয়েও এসএসসির ফরম পূরণ করা থেকে বাদ পড়েছে। নির্বাচনি বা টেস্ট পরীক্ষা মূলত পাবলিক পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই ও অবস্থান বোঝার একটি অভ্যন্তরীণ মাধ্যম। তবে এ পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়া সত্ত্বেও কেবল কাঙ্ক্ষিত জিপিএ না পাওয়ায় মূল পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে না দেওয়া শিক্ষা বোর্ডের নিয়মের স্পষ্ট পরিপন্থি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের ফলাফলের জৌলুস বাড়াতে টেস্ট পরীক্ষায় পাশ করা শিক্ষার্থীদের ওপর জিপিএর শর্ত চাপিয়ে বাদ দিতে পারে না। বোর্ডের পরীক্ষা পরিচালনা-সংক্রান্ত বিধান ও বাত্সরিক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনি পরীক্ষার দিকনির্দেশনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। কোনো শিক্ষার্থী এ প্লাস বা নির্দিষ্ট কোনো জিপিএ না পেলে ফরম পূরণ করতে পারবে না, এমন কোনো মনগড়া শর্ত জুড়ে দেওয়ার এক্তিয়ার প্রতিষ্ঠানের নেই। তবে কোনো শিক্ষার্থী যদি টেস্ট পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হয় কিংবা বোর্ডের অন্যান্য আবশ্যক যোগ্যতা পূরণে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে তাকে ফরম পূরণ থেকে বিরত রাখা যেতে পারে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘গ্যাস সঙ্কটের নেপথ্যে দীর্ঘ অব্যবস্থাপনা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের চলমান গ্যাস সঙ্কটকে দীর্ঘমেয়াদি অব্যবস্থাপনার ফল হিসেবে দেখছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সাম্প্রতিক এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি, বৈরী আবহাওয়া কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা দিয়ে বর্তমান সঙ্কটের পুরো চিত্র ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সাথে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেয়া হলেও এসব কেন্দ্র চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক জ্বালানির দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। একই সময়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো, বঙ্গোপসাগরে অনুসন্ধান কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং গ্যাসের বিকল্প উৎস তৈরির উদ্যোগও প্রত্যাশিত গতি পায়নি। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়েনি। বরং এলএনজি ও অন্যান্য আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বিডি রহমত উল্লাহ গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়েছিল। দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেয়া হয়। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হলেও এসব কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়নি।

তিনি বলেন, সাগরে গ্যাস অনুসন্ধান কিংবা দেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়নি। বরং একপর্যায়ে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়। এর প্রভাব এখন বিদ্যুৎ খাতেও পড়ছে। একদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে, অন্য দিকে জ্বালানি সঙ্কটের কারণে সেসব কেন্দ্র থেকে কাক্সিক্ষত উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এর ফলে শিল্পকারখানাসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরনো গ্যাসকূপগুলো দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো, অধিক গ্যাসনির্ভর পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যায়ক্রমে আধুনিকায়ন এবং সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। একই সাথে বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন।

সাগর বিজয়ের পরও গ্যাস উত্তোলন অধরা

২০১২ সালের ১৪ মার্চ মিয়ানমারের সাথে এবং ২০১৪ সালে ভারতের সাথে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। এর ফলে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। কিন্তু সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলনে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি হয়নি।

অন্য দিকে মিয়ানমার সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর তুলনামূলক দ্রুত তাদের এ-৩ ব্লক থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু করে। ফলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সমুদ্রসীমা অর্জনের পরও অনুসন্ধান ও উৎপাদনে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বণিক বার্তা

‘এলএনজি টার্মিনাল বাড়ানোর চেয়ে জরুরি গ্যাসের ত্রিমাত্রিক জরিপ ও রিগে বিনিয়োগ’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গ্যাস সংকট মেটাতে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নির্মাণে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার।

এরই মধ্যে মহেশখালীতে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে চীনের একটি প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে আরো নতুন তিনটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। যদিও গ্যাস সংকটের টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নিশ্চিতে এলএনজি টার্মিনাল বাড়ানোর চেয়ে এ খাতে অনুসন্ধান বৃদ্ধি, মজুদ নিশ্চিতে কূপ খননের পাশাপাশি ত্রিমাত্রিক জরিপ ও রিগে বিনিয়োগ করার ওপর জোর দেয়ার কথা বলছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

তাদের ভাষ্য, বিদ্যমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের নানাবিধ সমস্যা এখন দৃশ্যমান। নতুন টার্মিনাল নির্মাণের ক্ষেত্রে বড় ব্যয়, অর্থনীতিতে বিভিন্নমুখী চাপ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিশ্চয়তার মতো বিষয় রয়েছে। পতিত সরকার এলএনজি আমদানি বাড়িয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি করে গেছে। এলএনজি আমদানিনির্ভরতার একই পথে হাঁটলে জ্বালানি খাত ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে বের হতে পারবে না বলে মনে করেন তারা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ম. তামিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের বিদ্যমান গ্যাস সংকটের বাস্তবতায় শুধু এলএনজি আমদানি কিংবা টার্মিনাল নির্মাণ করলেই হবে না। পাশাপাশি গ্যাস খাতে অনুসন্ধানে বিনিয়োগ আরো বাড়াতে হবে। স্থল ও সাগরে আরো বেশি গ্যাস অনুসন্ধানে জোরালো তৎপরতা দেখাতে হবে। সেক্ষেত্রে গ্যাস খাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, মজুদ নিশ্চিতে তথ্য-উপাত্ত (টুডি-থ্রিডি) আরো বেশি বিশ্লেষণ প্রয়োজন।’

২০১৮ সালে দেশে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। এরপর বিগত আট বছরে ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার বেশি এলএনজি আমদানি হয়েছে (২০১৮-১৯ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত)। এ সময়ে এলএনজিতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ৪৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। দেশে এলএনজি সরবরাহে রয়েছে দুটি টার্মিনাল, যেগুলোর দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা ১১০ কোটি ঘনফুট। প্রতিটি টার্মিনালের দৈনিক ভাড়া সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি টার্মিনালের দৈনিক ভাড়া ৩ লাখ ডলারের কাছাকাছি।

দেশে এলএনজি আমদানি শুরু হলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি হয়। আট বছরের ব্যবধানে তা এখন বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এলএনজি আমদানির সঙ্গে ভর্তুকির পরিমাণ ছয় গুণের বেশি বেড়েছে। নতুন টার্মিনাল নির্মাণ অনুমোদন দিলে সরকারের গ্যাস আমদানি ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হবে। গ্যাস আমদানির ব্যয় তুলতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দফায় দফায় গ্যাসের দাম বাড়িয়েও অর্থের সংস্থান করতে পারেনি। বরং অর্থের সংস্থান করতে বিদেশী সংস্থার কাছ থেকে ঋণের পাশাপাশি গ্যাস উন্নয়ন তহবিল (জিডিএফ) ব্যবহার করেছে।

দেশে এরই মধ্যে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ টার্মিনাল উৎপাদনে আসতে তিন বছরের বেশি সময় প্রয়োজন। সরকার আরো যেসব টার্মিনাল নির্মাণ অনুমোদনের পরিকল্পনা করছে, তার চেয়ে বরং স্থানীয় গ্যাস খাতে কূপ খনন, রিগে বিনিয়োগ, ত্রিমাত্রিক জরিপ এলাকা বাড়িয়ে স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে পারে।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘জুয়ায় দিনে ৩০ নতুন সাইট’। প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি জুয়ার ওয়েবসাইট বন্ধ হয়, কিছুদিন পর একই ধরনের আরেকটি সাইট হাজির। একটি অ্যাপ সরিয়ে দেওয়া হলে নতুন নামে আবার চালু হয় কার্যক্রম। এভাবে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি জুয়ার সাইট খোলা হয়। প্রযুক্তির এই ফাঁক গলে দেশে ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে অনলাইন জুয়া।

পুলিশের হিসাব বলছে, বর্তমানে দেশে ৫৮৬টি জুয়ার সাইট সক্রিয়। এসব জুয়ার ওয়েবসাইটে অবৈধ লেনদেনে ব্যবহৃত হচ্ছে ৩ হাজার ৮৬৪টি মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট। এতে দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা লেনদেন হয়।

অনলাইন জুয়ায় লেনদেন হওয়া টাকার বড় অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ বলছে, জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপস নিয়মিত বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) তালিকা দেওয়া হয়। তারা বন্ধও করে, তবে জুয়াড়িরা নতুন সাইট খুলে আবার শুরু করে। তাই অনলাইন জুয়া একেবারে বন্ধ করা যাচ্ছে না। কারণ, সাইট ও অ্যাপের অনেকগুলোর নিয়ন্ত্রণ দেশের বাইরে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সূত্র বলছে, গত ৬ মে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত চারজনকে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ মে নরসিংদী ও ঢাকার ধানমন্ডি থেকে আরও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে একটি মামলা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সজীব চক্রবর্তী, আশরাফুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন, তৈয়ব খান, সৌমিক সাহা, মো. কামরুজ্জামান ও আবদুর রহমান।

ওই মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সিআইডির কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে আসছিল চক্রটি। এসব প্ল্যাটফর্মে জুয়াড়িরা বিকাশ, রকেট, নগদসহ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেটের মাধ্যমে লেনদেন করত। পরে ওই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট জানিয়েছে, ওই চক্র চারটি ওয়েবসাইট খুলে জুয়া শুরু করেছিল। এসব ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার একটি চক্রের হাতে ছিল। তারা প্রায় ২৫০ কোটি টাকা পাচার করেছে। পাচার হওয়া অর্থ সিআইডি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা ইউনিট বিএফআইইউ এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ফেরত আনার কাজ চলছে। চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্ত করা হয়েছে।

দেশ রূপান্তর

‘১০ লাখ এআই ক্যামেরার জালে সারা দেশ’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, অপরাধ দমনে বিভিন্ন দেশের আদলে বাংলাদেশেও প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোসহ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধী ধরতে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমতা) ক্যামেরা বসানো হবে। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এজন্য ১০ লাখ এআই ক্যামেরা কিনবে বাংলাদেশ পুলিশ। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৩শ কোটি টাকা। অপরাধ দমনে এআই ক্যামেরা অত্যন্ত কার্যকরী একটি প্রযুক্তি। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধী শনাক্ত, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ও সন্দেহজনক গতিবিধি রিয়েল-টাইমে চিহ্নিত করতে পারে।

ইতিমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতনরা কয়েক দফা তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ৬৪ জেলা ও সব মহানগর এলাকা এআই ক্যামেরার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দেশের সবকটি মহাসড়কও আসবে আইআইর আওতায়। আগামী দুই বছরের মধ্যে ক্যামেরাগুলো স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। ইতিমধ্যে ঢাকা মহানগর এলাকার বিভিন্ন স্থানে এআই ক্যামেরা বসিয়ে সফলতা পাওয়া গেছে। তাই ঢাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও মূল সড়কসহ আনাচে-কানাচে ক্যামেরা বসাবে পুুলিশ। ক্যামেরাগুলো ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ। এ নিয়ে এসব দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা। তথ্যপ্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করার কথা রয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের।

এই প্রসঙ্গে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমানে ১৬টি পয়েন্টে ৩৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এতে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে। চালকদের মাঝে সচেতনতা এসেছে, আইন ভাঙার প্রবণতাও কমেছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে রাজধানীর দুই শতাধিক পয়েন্টে এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হলে ঢাকার বড় একটি অংশ নজরদারির মধ্যে চলে আসবে। গাড়ি চুরি রোধেও কাজ করছে এআই ক্যামেরা। অপরাধীদের ধরতেও এআই ক্যামেরার সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকার সফলতায় উৎসাহ জোগাচ্ছে : পুলিশ সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, বর্তমান বিশে^র শক্তিশালী হাতিয়ার হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন নগরী যেমন সিসি ক্যামেরা ও এআই ক্যামেরার মাধ্যমে লন্ডনের ‘রিং অব স্টিল’ কিংবা চীনের ‘স্কাই নেট’ প্রকল্পের মতো উদ্যোগগুলো অপরাধ হ্রাস করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু বাংলাদেশের শহরগুলোতে ক্রমাগত জনসংখ্যার চাপ, যানজট এবং আধুনিক ধাঁচের অপরাধ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে প্রচলিত নজরদারি ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত। সাধারণ সিসি ক্যামেরা কেবল ফুটেজ রেকর্ড করতে পারে, কিন্তু তা রিয়েল-টাইমে কোনো অপরাধ শনাক্ত করতে সক্ষম নয়। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বিশেষায়িত নজরদারি ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। রাজধানীতে এআই ক্যামেরা চালুর মাধ্যমে ট্রাফিক তদারকিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এতে যেমন যানজট কমছে তেমনি সড়কের শৃঙ্খলাও ফিরছে। এতে পুলিশ কর্তারা আশাবাদী হয়ে উঠছেন। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা দেন ঢাকার বিভিন্ন স্থানে এআই ক্যামেরা স্থাপনের।

আনা হচ্ছে সব জেলা ও মহানগর এলাকা : নাম প্রকাশ না করে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিটি জেলা শহর, মহানগর এলাকা ও মহাসড়ক এআই ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। প্রায় এক লাখের বেশি ক্যামেরা ক্রয় করা হবে। আপাতত ৫শ কোটি টাকার বাজেট ধরা হয়েছে। দুই বছরের মধ্যে ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হবে। এতে অপরাধ ও ট্রাফিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আসবে। প্রথাগত ক্যামেরার সঙ্গে এআই ক্যামেরার পার্থক্য হলো এদের ‘স্বয়ংক্রিয় বিশ্লেষণ ক্ষমতা’। এই নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত ক্যামেরাগুলো যেকোনো দ্রুতগতি যানবাহনের নম্বর প্লেট মুহূর্তের মধ্যে স্ক্যান করে জাতীয় ডেটাবেজের সঙ্গে মেলাতে পারবে। তা ছাড়া কোনো অপরাধী পালিয়ে গেলেও সহজেই ধরা পড়বে। জনবহুল এলাকায় ঝোলানো ক্যামেরাগুলো একসঙ্গে হাজারো মানুষের মুখের অবয়ব স্ক্যান করতে পারবে। আদালতের সাজাপ্রাপ্ত আসামি, পরোয়ানাভুক্ত অপরাধী কিংবা নিখোঁজ ব্যক্তিদের ছবি ডেটাবেজে থাকলে ক্যামেরা তাদের শনাক্ত করতে নিকটস্থ কন্ট্রোল রুমে সংকেত পাঠাবে। কোনো স্থানে অনেক মানুষের অস্বাভাবিক জটলা, মারামারি, আগুন লাগা বা দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যক্ত বস্তু পড়ে থাকতে দেখলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ম বাজাবে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘বন্দি কারাগারে মুক্ত দুর্নীতি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কারাগারের কিছু সেবায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও বদলায়নি পুরোনো অনিয়ম। কারাগারে কোনো বন্দি প্রবেশের পরই শুরু হয় অনৈতিক উপায়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। উন্নত খাবার সরবরাহ, অসুস্থ না হয়েও হাসপাতালে চিকিৎসার নামে আয়েশে থাকা, কারাগারে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ থেকে শুরু করে পছন্দমতো সেলে থাকাসহ পদে পদে দুর্নীতি হচ্ছে। এমনকি বন্দিদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কম্বল, ব্রাশ, পেস্ট, জুতা ও তোয়ালে ঘিরেও চলছে অঘোষিত বাণিজ্য। টাকা দিলে মিলছে সব বাড়তি সুবিধা আর টাকা না থাকলে নিয়মের বেড়াজালে আটকে যেতে হচ্ছে সাধারণ বন্দিদের। বন্দির স্বজনদের ফাঁদে ফেলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে টাকা। তথ্যকেন্দ্রগুলোয় টাকা ছাড়া মিলছে না বন্দিদের তথ্য। কারাগারের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশে চলছে এ উৎকোচ বাণিজ্য।

গত মঙ্গল ও বুধবার কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে গিয়ে বন্দির স্বজন ও কারামুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এবং অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিতর ও বাইরের নানান অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার তথ্য। কারা কর্তৃপক্ষ অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করে জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাকায় মেলে আরাম-আয়েশ: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানান, ক্যান্টিনের খাবার চড়া মূল্যে কিনতে বাধ্য করতে সরকারি খাবারের মান খারাপ করা হয়। প্রতিটি ভবনেই রয়েছে ক্যান্টিন। এসব ক্যান্টিন থেকে ডিমের তরকারি ৫০, এক পিস মুরগি ৮০ ও ছোট তিন পিস গরুর মাংস ১২০ টাকা দামে বিক্রি করা হয়। করতোয়া ভবনের নিচের ক্যান্টিনকে মূল ক্যান্টিন মনে করা হয়। এ ক্যান্টিনে সবচেয়ে উন্নত খাবার পাওয়া যায়। এসব ক্যান্টিন ঘিরেও মাসিক ভিত্তিতে বড় উৎকোচ ওঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানান, সোনা পাচার মামলায় যারা কারাগারে যান, তাদের সবচেয়ে মূল্যবান বন্দি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ কর্মকর্তারা মনে করেন তারা বিত্তশালী হবেন। তাদের ভালো রাখার ব্যবস্থা করতে বিভিন্ন প্রস্তাব পাঠানো হয়। যারা প্রস্তাবে রাজি হন, তাদের জন্য বিভিন্ন সুব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে মধুমতী ভবনের ছয় তলায় ৬/১ নম্বর সেলে ১৫ জন বন্দির সবাই সোনা পাচারসংশ্লিষ্ট (কারারক্ষীদের ভাষায় গোল্ডেন) বলে জানা গেছে।

সূর্যমুখী, শাপলা ও বনফুলের বিভিন্ন সেলে হেভিওয়েট রাজনৈতিক বন্দিদের রাখা হয়েছে। সেখানেও চাহিদা অনুযায়ী উৎকোচ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কারাগারের সামনে কথা হয় এক রাজনৈতিক বন্দির ভাগনের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, কারাগারে আসার পর ২০ হাজার টাকা দিয়ে তাঁর মামাকে একটি ভালো সেলে থাকার ব্যবস্থা করেছেন। সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আমলের এক কাউন্সিলর এবং একই দলের অন্য এক নেতা রয়েছেন। শুরুতে কষ্ট হলেও এখন আর অসুবিধা নেই। এদিকে কম্বল দখলে রাখতেও উৎকোচ দিতে হয় বন্দিদের। কোনো কোনো বন্দি পাঁচ থেকে আটটি কম্বলও নিজের দখলে রেখে আরামদায়ক বিছানা বানিয়ে ঘুমান। এ ক্ষেত্রে তল্লাশির সময় সুবিধাভোগী কারারক্ষীরা সেটি দেখেও দেখেন না। অথচ প্রতি বন্দির জন্য বরাদ্দ থাকে দুটি কম্বল। একটি বিছানো, আরেকটি গায়ে দেওয়ার। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা সাজাপ্রাপ্ত বন্দিরা মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছেন। মাঝেমধ্যে কেউ ধরা পড়লে তাকে শাস্তি হিসেবে অন্য কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

ঘুষ না দিলে মেলে না বন্দির তথ্য: মূল কারাফটকে সাক্ষাতের স্লিপ দেওয়া কাউন্টারের পাশে ও ফটকের ভিতরে ‘প্রিয়জন’ ক্যান্টিনের পাশে দুটি তথ্যসহায়তা কেন্দ্র। ক্যান্টিনের পাশের তথ্যসহায়তা কেন্দ্রটি থেকে জামিনপ্রাপ্ত বন্দিদের তথ্য সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ঘুষ না দিলে কারামুক্তির অপেক্ষায় থাকা বন্দিদের তথ্য স্বজনদের দিতে চান না দায়িত্বরতরা। ১০০ থেকে ৫০০ যার কাছ থেকে যেভাবে সম্ভব টাকা নেয় তথ্যসহায়তা কেন্দ্র। যারা টাকা দেন তাদের বন্দিদের নাম, বাবার নাম ও স্ত্রীর নাম লিখে নেওয়া হয়। এরপর একজন কারারক্ষী কারাগারের ফটক ঘুরে এসে এক একজনের তথ্য দিতে থাকেন। যারা টাকা দেন না, তাদের বন্দিদের নাম ঠিক রেখে অন্য তথ্য উল্টোপাল্টা বলা হয়। মতিঝিল থানার সাইবার সিকিউরিটি আইনের একটি মামলায় সাজাভোগ শেষে মঙ্গলবার রাতে কারামুক্ত হন আল আমিন নামে এক ব্যক্তি। তাকে নিতে কারাফটকে আসেন তার মামা মোবারক। আল আমিনের তথ্য পেতে ২০০ টাকা দিতে হয়েছে তার। মোবারক বলেন, ‘এবার তো কমই দিলাম। বছরখানেক আগে ৫০০ টাকা দিতে হয়েছিল।’ চাওয়ার সময় ভালো পোশাক দেখলে ২-৩ হাজার টাকাও চেয়ে বসেন কারারক্ষীরা। বন্দির স্বজন সেজে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তথ্যকেন্দ্রের পাশে দাঁড়িয়ে দেখা গেছে, যারা তথ্য নিতে আসছেন তাদের থেকে ‘খুশিমনে যা দেবেন দেন’ বলে টাকা নিচ্ছেন দায়িত্বরত কারারক্ষী সুমন। যারা টাকা দিচ্ছেন না, তারা কোনো তথ্য না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্দির মুক্তির অপেক্ষা করছেন।