কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে সদর-৩ আসনের এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলাকে কেন্দ্র করে গণধিকার পরিষদ ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার গণ অধিকার পরিষদ নিয়ে আমির হামজার একটি বক্তব্যর প্রতিবাদে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে বিক্ষোভ করছিল। এসময় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা গাড়িযোগে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। এমপির গাড়ি বিক্ষোভস্থলের কাছাকাছি পৌঁছালে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান জোরালো হয়। এসময় এমপির গাড়িতে হামলা চালালে গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়।
পরে এমপির সমর্থকরাও পাল্টা স্লোগান দিলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা পাল্টাপাল্টি হামলায় রূপ নেয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘন্টাব্যাপী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় শহরের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে এমপি’র সমর্থকরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে গণ অধিকার পরিষদের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। গণ অধিকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় জামায়াত কর্মীদের হামলায় তাদের কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণঅধিকারের কুষ্টিয়া শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে তারা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। আমাদের সেক্রেটারির অফিস ভাঙচুর করেছে। দলের অন্তত ৮-১০ জন আহত হয়েছেন।
জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, গণঅধিকার পরিষদের কোন ভিত্তি নাই তাদের অল্প কয়েকজন কর্মী রয়েছে, তারা বিভিন্ন দলের লোকজন নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের হামলা চালায়। তিনি বলেন ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের উপস্থিতিতে এমপি সাহেবের গাড়িতে হামলা চালায়, পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসক ডা. ইকবাল হাসান বলেন, সংঘর্ষে আহত তিনজন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত আছে। সেখানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
