ফ্রান্সের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি কর প্রশাসন, ডিজিএফআইপি, বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। হামলায় ফরাসি করদাতা ও ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত এবং করসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য চুরি হয়েছে। হ্যাকার চুরি করা তথ্য সাইবার অপরাধীদের ব্যবহৃত একটি অনলাইন ফোরামে বিক্রির জন্য প্রকাশ করার পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
গত ১২ আগস্ট এক হ্যাকার ওই অনলাইন ফোরামে দাবি করে, সে ফ্রান্সের কর প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ একটি ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে এবং বিপুলসংখ্যক নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করেছে। পরদিন ফরাসি অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে সাইবার হামলা ও তথ্য ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করে।
তদন্তে জানা গেছে, হ্যাকার ডিজিএফআইপির অভ্যন্তরীণ একটি ব্যবস্থায় ভার্চুয়াল ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রবেশ করেছিল বলে দাবি করেছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানায়, জুনের শেষ দিকে নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় ওই অননুমোদিত প্রবেশাধিকার শনাক্ত করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে তখন তথ্য চুরি হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করা যায়নি।
জুনের শেষ দিকে অনুপ্রবেশের পথ বন্ধ হওয়ার পরও চুরি করা তথ্যের বিষয়টি ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানতে পারে পরে, যখন হ্যাকার প্রকাশ্যে তথ্য বিক্রির ঘোষণা দেয়। জুনের শেষ দিকে অনুপ্রবেশ শনাক্ত করার পর তথ্য চুরির বিষয়টি কেন তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
হ্যাকার প্রথমে কয়েক কোটি ফরাসি নাগরিকের তথ্য নিজের কাছে থাকার দাবি করেছিল। তবে প্রকাশ্যে বিক্রির জন্য দেওয়া তথ্যের একটি নমুনায় ৬ লাখের বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে কতজন আক্রান্ত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফরাসি কর প্রশাসন জানিয়েছে, কোন কোন তথ্য চুরি হয়েছে এবং মোট কতজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
চুরি হওয়া তথ্যের নমুনা বিশ্লেষণে ব্যক্তির পরিচয়, বাসার ঠিকানা, ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, করযোগ্য আয়, করের হার এবং পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। কিছু নথিতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকারি অর্থ দপ্তরের নাম এবং করদাতার সঙ্গে কাজ করা কর্মকর্তার পরিচয়ও রয়েছে।
এসব তথ্য ব্যবহার করে পরিচয় জালিয়াতি ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রতারণার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আয়, ঠিকানা ও করসংক্রান্ত তথ্য একসঙ্গে ব্যবহার করে প্রতারকরা বিশ্বাসযোগ্য পরিচয়ে নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর ডিজিএফআইপি অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ফ্রান্সের জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা সংস্থা আনসির সহায়তায় তদন্ত চলছে। সরকার এ ঘটনায় ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করবে এবং তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ সিএনআইএলকে ঘটনাটি জানানো হবে।
ফ্রান্সের সরকারি কর প্রশাসনের ওপর এই হামলা এমন সময়ে ঘটল, যখন দেশটির সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলো ধারাবাহিকভাবে সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ফ্রান্সে খোলা ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংরক্ষণকারী একটি সরকারি তথ্যভান্ডারে সাইবার অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কয়েক মিলিয়ন মানুষের তথ্য ঝুঁকিতে পড়েছিল।
এ ছাড়া জুলাইয়ের শেষ দিকেও ফ্রান্সের জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের তথ্য নিয়ে একটি নিরাপত্তা ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসে।
ফরাসি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সাইবার হামলার ঘটনায় সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি তথ্য সুরক্ষায় আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
ফরাসি অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তির প্রকৃত সংখ্যা এবং চুরি হওয়া তথ্যের পূর্ণ পরিমাণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে হ্যাকার কয়েক কোটি মানুষের তথ্য চুরি করেছে বলে যে দাবি করেছে, তার পুরোটা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ফ্রান্সের কর বিভাগের সাইবার হামলায় ৬ লাখের বেশি করদাতার তথ্য চুরি
আব্দুল মোমিত (রোমেল) প্যারিস থেকে
অনলাইন
১ ঘন্টা আগে
১৬ আগস্ট (রবিবার), ২০২৬, ৮ঃ৪৬ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
