সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের মিয়ারচর খেয়াঘাটে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের বিরোধের জেরে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে একই ঘাটের এপার-ওপার দু’দফায় ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে এ পরিস্থিতি চললেও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও সাধারণ যাত্রীদের হয়রানির প্রতিবাদে বাদাঘাট বাজারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতি, সাধারণ জনগণ ও শ্রমিকদের উদ্যোগে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল সিকদার, সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশিদ, কোষাধ্যক্ষ মাওলানা মোখলেসুর রহমান, বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম, আমির শাহ্, আজিজুর ইসলাম, হেলু মিয়া, ব্যবসায়ী সারোয়ার হোসেন, জুবায়ের আহমদ, সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ। সরজমিন দেখা যায়, খেয়াঘাটের পশ্চিম পাড়ে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের অনুমোদিত ইজারাদার ওয়াহেদ মিয়ার লোকজন টোল আদায় করছেন। অপরদিকে নদীর পূর্বপাড়ে শ্রী শ্রী মদন মোহন জিউ দেবোত্তর এস্টেটের দাবিতে কালী চরণ দত্ত চৌধুরী ভজনের কাছ থেকে ইজারা নেয়া জেলা ছাত্রদল নেতা নাঈম আহমেদ শিশিরের লোকজনও একই ঘাটে টোল আদায় করছেন।
জানা যায়, খয়াঘাট জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি সম্পত্তি। এ বিষয়ে জেলা জজ আদালতের আপিল মামলার রায়ে দাবিকৃত ভূমিকে দেবোত্তর সম্পত্তি নয়, বরং বাংলাদেশ সরকারের সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে সিভিল রিভিশন মামলা দায়ের করা হলে হাইকোর্ট বিভাগ স্থিতাবস্থার (ঝঃধঃঁং ছঁড়) আদেশ দেন। পরবর্তীতে ওই আদেশের মেয়াদ সময় সময় বর্ধিত করা হয়। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওয়াহেদ মিয়া ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে খেয়াঘাটের টোল আদায়ের দায়িত্ব পালন করেন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও জেলা পরিষদের মাসিক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২ জুলাই থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত ৪২ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে পুনরায় টোল আদায়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে দেবোত্তর এস্টেটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট খেয়াঘাট তাদের সম্পত্তির অংশ। তারা বৈধভাবে লিজ দিয়েছে এবং সেই লিজের ভিত্তিতেই তাদের প্রতিনিধি নাঈম আহমেদ শিশির টোল আদায় করছেন।
খেয়াঘাটের যাত্রী আমির হোসেন বলেন, খেয়াঘাটের মালিকানা যে পক্ষেরই হোক, দুইপক্ষ একসঙ্গে টোল আদায় করায় আমাদের দ্বিগুণ টাকা দিতে হচ্ছে। জেলা ছাত্রদল নেতা নাঈম আহমেদ শিশির বলেন, আমি দেবোত্তর এস্টেটের মালিক কালীচরণ ভজনের কাছ থেকে এই ঘাট ইজারা নিয়ে ভাড়া আদায় করেছি। জেলা পরিষদ থেকে ইজারা নেয়ার দাবি করা অপরপক্ষ অবৈধ। এ ঘাট নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বারবার বসার অনুরোধ করলেও তারা বসছেন না। ইজারাদার মো. ওয়াহেদ মিয়া বলেন, জেলা পরিষদ থেকে আমি ঘাটটি ইজারা নিয়েছি। শুধু এ বছর নয়, গত দুই যুগ ধরে জেলা পরিষদ থেকে আমাকে এ ঘাট ইজারা দেয়া হচ্ছে। ইদানীং হঠাৎ করে ছাত্রদল নেতা শিশির দেবোত্তর এস্টেটের মালিকানা দাবি করে নৌকা পারাপারে বাধা সৃষ্টি করছেন এবং যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন। তিনি বলেন, সোমবার সাবেক চেয়ারম্যান তারা মিয়া যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তাতে আমরাও একমত হয়েছি।
দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তারা মিয়া বলেন, যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে খেয়া নৌকা চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন যে ভাড়া আদায় হবে, শেষ পর্যন্ত যারা বৈধভাবে ঘাটের মালিক হবেন, তাদের কাছে সেই টাকা তুলে দেয়া হবে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান মানিক বলেন, খেয়াঘাটটি জেলা পরিষদের অধীনে। এরপরও এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
