ইরানের কাছে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তির আশা ফিকে

ইরানের কাছে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি ট্রাম্পের

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৬ টি শর্ত দিয়েছিলো ইরান। বলেছিলো কেবল এই সকল শর্তের সবগুলো পূরণ হলেই কেবল হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া হবে। শর্তের জবাবে উল্টো ইরানের কাছে বিগত কয়েক দশকের যুদ্ধ, আক্রমণ এবং বিক্ষোভে নিহতদের জন্য বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। পাল্টা এই দাবি জানিয়ে ইরানকে চাপে ফেলতে চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ট্রাম্পের এই নতুন ও কঠোর অবস্থানের কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর চলমান প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

হোয়াইট হাউসে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, গত ৫০ বছরে ইরান যেসব ক্ষয়ক্ষতি করেছে এবং সংঘাত ও বিক্ষোভে বেসামরিক মানুষ ও মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাইবে। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনে তেহরানের হাতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ এবং প্রাণহানির জন্যও ইরানকে দায়ী করা উচিত। এমনকি ২০০০ সালে ইয়েমেনে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস কোল-এ আল-কায়েদার হামলায় নিহত ১৭ মার্কিন নাবিকের পরিবারের জন্যও ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি, যদিও ওই হামলার পেছনে আল-কায়েদার হাত ছিল, যা ইরান সমর্থিত ছিল না। ইরানের পক্ষ থেকে দেয়া শর্তে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং সামরিক হুমকি ও নৌঅবরোধ বন্ধ করতে হবে। ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালিতে নতুন শিপিং রুট ও ব্যবস্থাপনা চালুর বিষয়ে তেহরান ও ওমানের আলোচনা বেশ আশাব্যঞ্জক পর্যায়ে রয়েছে বলে এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা জানান।

তবে ট্রাম্পের এই নতুন ও অপ্রত্যাশিত দাবির ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে, যার তাৎক্ষনিক প্রভাবে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম পাঁচ ভাগ বেড়ে গেছে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন ভোটারদের জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভের মুখে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ডেমোক্রেট প্রতিনিধি বিল কিটিং সিএনএনকে বলেন, যা দেখা যাচ্ছে তা আত্মসমর্পণেরই শুরু, এখন বাস্তবতা সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে আসছে। এদিকে ওমানের সাথে চলমান আলোচনা নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানান, ওমানের সাথে আলোচনা মসৃণ ও গঠনমূলকভাবে এগিয়ে চলেছে এবং শিপিং রুট ম্যাপের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দেন, প্রণালি ব্যবহারের জন্য তেহরানকে কোনো মাসুল আদায় করতে দেওয়ার চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না। জুলাই মাসে দুই সপ্তাহের ব্যাপক বিমান হামলা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব পুরোপুরি ভাঙতে পারেনি ওয়াশিংটন। জুন মাসে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও জুলাইয়ে মার্কিন পক্ষ থেকে ফের ইরানি শিপিংয়ের ওপর অবরোধ আরোপ করা হয়, যা চুক্তি লঙ্ঘন বলে দাবি করে তেহরান। এরপর থেকেই ইরান প্রণালিতে অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে এবং অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন