পুলিশি গাফিলতিতে হেফাজতে মৃত্যু মেনে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী

তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর পরিবারকে চাকরি ও অর্থ সাহায্যের ঘোষণা

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার হালিশহরের এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাকে পুলিশের পাফিলতি বলে মেনে নিয়েছে বিজেপি সরকার। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে চাকুরি ও অর্থ সহযোগিতার কথা ঘোষণা করেছেন। রোববার এই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিক্ষোভের মুখে পড়ে হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন। ‌মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য বলেছেন, মমতা জনরোষের মুখে পড়েছিলেন।
সোমবার ভিন্ন দলের সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজধর্ম পালনের নজির সৃষ্টি করেছেন। একই সঙ্গে গাফিলতির অভিযোগ মেনে তদন্তকারী অফিসারকে সাসপেন্ড ও হালিশহর থানার ইনচার্জকে ক্লোজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পী গৌরীসারিয়াকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মৃত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে শুভেন্দু বলেছেন , মৃতের স্ত্রী পুলিশের বিরুদ্ধে তার স্বামীর উপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন । অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হবে এবং ঘটনায় পুলিশের কোনও কর্মকর্তা বা কর্মীর ভূমিকা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে একাধিক আর্থিক ও চাকরির ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মৃতের স্ত্রীকে প্রথম এক বছর প্রতি মাসে ১৫ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এক বছর পর তাকে গ্রুপ-ডি পদে চাকরি দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। পাশাপাশি পরিবারের দুই শিশুর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ১০ লক্ষ রুপি আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, পরিবারের পক্ষ থেকে এই আর্থিক সহায়তার আবেদন করা না হলেও শিশুদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য,পরিবার এই মৃত্যুর ঘটনায় বিচার চেয়েছে এবং প্রশাসনের উপর আস্থা রেখেছে। এই আস্থাকে সরকারের কাছে বড় পাওনা বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত চাঁদা

বাজিসহ একাধিক অভিযোগে বিরজু কেওটকে গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে। তিনি কাঁচরাপাড়া পুরসভার পদত্যাগী তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী। হালিশহর থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করার পর শুক্রবার আদালতে পেশ করে। বিচারক তাকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। কিন্তু পরদিনই পুলিশি হেফাজতে তার মৃত্যুর খবর সামনে আসে।
এরপর মৃতের স্ত্রী জেনি শর্মা কেওট অভিযোগ করেন, লকআপের ভেতরে পুলিশি মারধরের কারণেই তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন