তাড়াশে দুই হত্যাসহ ১০ দিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ১০ দিনে মধ্যে ৫ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। এর মধ্যে একদিনের ব্যবধানে মিলন হোসেন (৩০) নামের এক সিএনজিচালক ও রাজু আহম্মেদ (১০) নামে এক শিশুসহ দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা একটি আটোভ্যান এবং একটি সিএনজি ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের হত্যা করে তাড়াশ উপজেলা এলাকায় মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া মরদেহ দু’টির পরিচয়ও পাওয়া গেছে।

তারা হলেন, গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার জুমার বাড়ির জাঙ্গালীয়া গ্রামের মৃত সোলায়মান আলীর ছেলে মিলন মিয়া ও শিশু রাজু আহম্মেদ বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ররোয়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে। গত ২রা আগস্ট শিশু রাজু শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর এলাকা থেকে ও ৩রা আগস্ট মিলন বগুড়া সদরের গোদার পাড়া চারমাথা সিএনজিস্ট্যান্ড থেকে ভাড়ায় যাত্রী নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ হন। এদিকে গত ১০ দিন আগে উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের বিষমডাঙ্গা গ্রামের মো. সোরহাব আলীর মেয়ে তানিয়া ইসলাম স্বামীর হাতে খুন হন। তানিয়ার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার বাসিন্দা আক্তার হোসেনের ছেলে মো. শাহ পরানের প্রায় চার বছর আগে প্রথমে প্রেম পরে বিয়ে হয়। আর বিয়ের পর ছেলের পরিবার মেনে না নেয়ায় তারা তাড়াশের বিষমডাঙ্গা গ্রামে তানিয়ার বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। গত সোমবার রাতে নিহত তানিয়া ও তার স্বামী প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে স্বামী রাতের কোনো এক সময় স্ত্রীকে প্রথমে পিটিয়ে ও পরে মাথায় ও শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। তাড়াশ থানা পুলিশ গত ২৮শে জুলাই বাথরুম থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। গত ৩রা আগস্ট তাড়াশ উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর চুকনী পাড়ার আব্দুল জলিলের স্ত্রী সালমা খাতুন (৩৫) ও তালম ইউনিয়নের হাঁড়িসোনা গ্রামের হাসেম আলীর নববধূ মীম খাতুন (১৬) সহ ১০ দিনে মোট ৫টি মরদেহ উদ্ধার করে তাড়াশ থানা পুলিশ। ১০ দিনের ব্যবধানে তাড়াশ থানা এলাকায় ৫টি মরদেহ তাড়াশ থানা পুলিশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহ আলম জানান, মরদেহগুলো উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন