দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। সেখানে খেলার সুযোগ পেয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত পেসার তাসকিন আহমেদ। এর আগে যুব বিশ্বকাপ, ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও সাদা পোশাকে এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নামছেন এই ডানহাতি পেসার। বাংলাদেশ দল যখন সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফর করে তখন তাসকিনের বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর। ডারউইনের মাঠে ১৩ই আগস্ট প্রথম ও ২২ তারিখে ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্টে শুরু হবে। তার আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হয় টাইগাররা। এরপরও দলের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাসকিন। অজিদের মাটিতে পেসাররাই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করবে।
তাই তাসকিনের জন্য থাকছে সেখানে দলের জন্য অবদান রাখার অগ্নিপরীক্ষাও। আসন্ন টেস্ট সিরিজ নিয়ে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে এখানে আসতে পেরে সত্যি সম্মানিত বোধ করছি। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা দল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাদের মাটিতে ও তাদের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেট খেলা আমাদের সব ক্রিকেটারের জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। আমাদের জন্য সিরিজটা নিশ্চিতভাবেই সহজ হবে না, তবে আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে আশাবাদী।’ অন্যদিকে এই সিরিজে স্বাগতিক শিবিরের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে ট্রাভিস হেডকে। ক্রিকেট বিশ্বের তিন সংস্করণেই প্রতিপক্ষের বোলারদের জন্য আতঙ্কের নাম অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি ব্যাটার। প্রতিপক্ষকে চুরমার করে দেয়াই যার মূল কাজ, তাকে থামানোর চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত ঢাকার এই তারকা পেসার। নির্দিষ্ট দিনে পিচ ও কন্ডিশনের আচরণের ওপর সবকিছু নির্ভর করে জানিয়ে নিজস্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বললেন তাসকিন। হেডের মতো তারকাকে দ্রুত সাজঘরে ফেরাতে নিজের নিয়মিত বোলিং কৌশল ও স্বাভাবিক ধারায় অনড় থাকতে চান তাসকিন।
তিনি বলেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, সে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটার (হেড)। তবে এটি এখনো ব্যাট ও বলের খেলা। গত কয়েক বছর ধরে যেভাবে করে আসছি, আমি আমার প্রক্রিয়া অনুসরণ করব। সহজ হবে না, তবে আমি আমার প্রক্রিয়ায় থাকব এবং দেখি কী হয়।’ প্রথম টেস্টের একাদশে ইবাদত হোসেন ও শরিফুল ইসলাম না থাকায় বোলিং বিভাগে নিজের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে বলে মনে করেন এই ফাস্ট বোলার। সাইড স্ট্রেইনের চোটের কারণে ইবাদত ছিটকে গেছেন। সফরের আগে পার্থে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখিয়ে নিজের অ্যাঙ্কেল স্ক্যান করিয়েছেন তাসকিন। তবে অনুশীলনে হালকা আঘাত পাওয়া তাইজুল ইসলাম এখন সুস্থ আছেন এবং বৃহস্পতিবার তিনি খেলবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পেস বহরের দুই মূল অস্ত্রকে ছাড়া খেলতে হওয়াকে দলের জন্য বড় ক্ষতি মনে করলেও অন্য বোলারদের জন্য এটিকে সেরাটা দেওয়ার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি। দলের পেস আক্রমণ ও সহখেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের খুব মিস করব, বিশেষ করে নাহিদ রানা। সে বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটে বড় হুমকি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সে চোট পেয়েছে। রানা ও শরিফুল থাকলে চিত্রটা ভিন্ন হতো। তবে আমি এবং আরও কয়েকজন বোলারের কিছুটা অভিজ্ঞতা আছে, ভালো করার জন্য। অস্ট্রেলিয়ায় খেলা বোলারদের জন্য এটি দারুণ একটি সুযোগ।’ মিরপুরে গত জুনে অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে জেতা সেই সিরিজ থেকে প্রেরণা নিচ্ছেন তাসকিন। তবে ঘরের কন্ডিশন আর বিদেশের উইকেটের মধ্যে বেশ পার্থক্য থাকে বলেও জানান তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও স্কট বোল্যান্ডের মতো তারকা ফাস্ট বোলারদের দেখে বড় হয়েছেন তিনি। এখন তাদের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়ে বেশ মুখিয়ে আছেন। বড় ইভেন্টে ভালো করতে স্পোর্টিং উইকেটে খেলার গুরুত্ব অনেক। বিসিবি যে ভালো উইকেট তৈরি করছে সেটির প্রশংসা করেন তিনি। দীর্ঘ ২৩ বছর পর পাওয়া এই সুযোগে সিরিজটিকে স্মরণীয় করতে মুখিয়ে আছেন দলের সবাই। উইকেটের মান ও উন্নতির দিক নিয়ে তাসকিন বলেন, ‘আমাদের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য এ ধরনের কন্ডিশন ও উইকেট প্রয়োজন। এ কারণেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দলগুলোর বিপক্ষে ভালো উইকেট দেয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের মূল লক্ষ্য প্রতিদিন আরও ভালো হওয়া।’
