সফরকারী মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিলো বাংলাদেশ এইচপি ক্রিকেট দল। মিরপুরে গতকাল ১০৬ রান তাড়া করতে নেমে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৭.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের। ব্যাট হাতে নায়ক জিসান আলম মাত্র ১৯ বলে ফিফটি করে শেষ পর্যন্ত ২টি চার ও ৭টি ছক্কায় ২১ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন। আরেক ওপেনার জাওয়াদ আবরার ৮ বলে ২৩ রান করেন। ম্যাচসেরা হওয়ার পর জিসান বলেন, ‘গত ম্যাচ ভালো খেলতে পারিনি। রিয়ালাইজ করেছি যে পরের ম্যাচ কীভাবে ভালো খেলা যেতে পারে। আজকে সেটা এক্সিকিউট করতে পেরেছি, খুব ভালো লাগছে।’
অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই ম্যাচ দুটি খেলা হয়েছে। দীর্ঘদিন অনুশীলনের পর মাঠের এই পারফরম্যান্স দলের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেবে। টস হেরে প্রথমে বোলিং করতে হলেও বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সফরকারীদের কম রানে আটকে রাখা সম্ভব হয়। পরশু বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। এই ফর্ম ধরে রাখতে মুখিয়ে আছেন বলে জানান তরুণ ক্রিকেটাররা। গতকাল মিরপুরে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে মালয়েশিয়া ৩ ওভারে প্রথম উইকেট হারায়। ৫ বলে ০ রান করা সাইফ উল্লাহকে বোল্ড করেন মোহাম্মদ রুবেল। এরপর ২০ বলে ১৮ রান করা আসলাম খানকে সাজঘরে ফেরান বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান। ১৯ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে ৫৮ রানের জুটি গড়েন সাঈদ আজিজ ও আহমেদ আকিল। দুজনই আবু হায়দারের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। আজিজ ৫২ বলে ৪০ এবং আকিল ৩৩ বলে ৩০ রান করেন। পুরো ২০ ওভার খেলে ৪ উইকেটে ১০৫ রান সংগ্রহ করে মালয়েশিয়া। টস প্রসঙ্গে জিসান বলেন, ‘অবশ্যই।
যদি আমরা টস জিততাম, তবে ব্যাটিং করলে হয়তো সবার জন্য একটা সুযোগ থাকতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা ব্যাটিং পাইনি, বোলিং পেয়েছি। আমরা চেষ্টা করেছি ওদের যত দ্রুত সম্ভব অলআউট করে ম্যাচটা শেষ করতে।’ দলের তরুণ ক্রিকেটারদের বিকাশে বিসিবি এবং কোচিং স্টাফরা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন। সাবেক তারকা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও সোহেল ইসলামসহ কোচরা ক্রিকেটারদের কৌশলগত উন্নতির ওপর নজর দিচ্ছেন। বিশেষ করে বিপিএলে গত বছর ম্যাচ না পাওয়ার কষ্ট ভুলে নিয়মিত অনুশীলনে মনোযোগ দিয়েছেন জিসান। অনূর্ধ্ব-২৩ ও এনসিএলের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করছেন তিনি। কোচদের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘রিয়াদ ভাই আমাদের ব্যাটিংয়ের দায়িত্বে আছেন। উনি আমাদের সবসময় সাহায্য করছেন। কোনো ব্যাটসম্যানের কী প্রয়োজন, সেটা উনি জাস্টিফাই করে কাজ করছেন। মাশাআল্লাহ রিয়াদ ভাই, সোহেল স্যারসহ বাকি যারা আছেন তারা সবাই খুব ভালো কাজ করছেন।’
ছোটবেলা থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ধারার জন্য পরিচিত জিসান নিজের স্বভাবসুলভ খেলাতেই ভরসা রাখছেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুযোগ পেলে যেকোনো পজিশনে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে চান এই তরুণ ক্রিকেটার। রান না পেলেও হতাশ না হয়ে নিজের প্রক্রিয়ার ওপর বিশ্বাস রাখাটাই তার অন্যতম শক্তি। নিজের ব্যাটিং দর্শন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন যে আমি ছোটবেলা থেকেই এভাবে খেলে বড় হয়েছি। আমি ওভাবেই খেলার চেষ্টা করি। কখনো রান হয়, কখনো হয় না। রান না পেলে আমি খুব একটা চিন্তিত হই না। আমি প্রসেসে থাকার চেষ্টা করি এবং নিজের কাজগুলো করি যেন দ্রুত কামব্যাক করতে পারি।’
