বাংলাদেশের বিপক্ষে ২৩ বছর আগের টেস্ট নিয়ে যা বললেন গিলক্রিস্ট

বাংলাদেশের বিপক্ষে ২৩ বছর আগের টেস্ট নিয়ে যা বললেন গিলক্রিস্ট

ফন্ট সাইজ:

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে গ্রীষ্ম মানেই টানটান উত্তেজনা ও উৎসবের আবহ। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে এবার সেই দৃশ্য দেখতে পাচ্ছেন না অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। সিরিজটি মাঠে গড়াচ্ছে একটু আগেভাগে আর ডারউইন ভেন্যুটিও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট আঙিনায় একটু ভিন্ন প্রকৃতির। বছরের এই সময়টায় সাধারণত দেশের মাঠে টেস্ট খেলে না অস্ট্রেলিয়া। সেখানকার ক্রীড়াঙ্গন এখনও মূলত ডুবে আছে তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলে, যেটিকে তারা বলে থাকেন ফুটি। প্রায় দেড়শ’ বছরের টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবার আগস্ট মাসে ঘরের মাঠে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে তারা।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি মূলত সূচিতে ছিল আগামী বছরের মার্চে। সেক্ষেত্রে মূল ভেন্যুগুলোতেই হয়তো খেলার সুযোগ মিলতো। তবে টেস্ট ক্রিকেটের দেড়শ’ বছর পূর্তি উপলক্ষে মার্চে মেলবোর্নে বিশেষ এক টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ তাই এগিয়ে আনা হয়েছে ৭ মাস। মূল ভেন্যুগুলো এখন মূলত ব্যস্ত ফুটিতে। আবহাওয়াও পুরোপুরি ক্রিকেট উপযোগী নয়। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ভরসা তাই নর্দান টেরিটরির ডারউইন। অস্ট্রেলিয়ার ক্রান্তীয় অঞ্চল এটি, অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এটি এখন অনেক উষ্ণ। তবে টেস্ট ক্রিকেট তো দূরের কথা, ডারউইনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটই হয় কদাচিৎ। স্রেফ দুটি টেস্ট ম্যাচ হয়েছে এখানে। প্রথমটি ২০০৩ সালের জুলাইয়ে খেলেছিল বাংলাদেশই, পরের বছরের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা। ফক্সস্পোর্টসকে গিলক্রিস্ট বললেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রথাগত টেস্ট সংস্কৃতির অংশ নয় বলে এখানকার চিত্রও আলাদা । এমনকি অস্ট্রেলিয়া দলের জন্যও এটি আলাদা। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তির কিপার-ব্যাটার বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী গ্রীষ্মকালীন টেস্ট ম্যাচগুলোর মতো এখানে তেমন ফোকাস আর জাঁকজমক নেই। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটিতে খেলেছিলেন গিলক্রিস্ট। সেবার সিরিজের প্রথম টেস্ট ছিল ডারউইনে, পরেরটি কেয়ার্নসে। সেই সিরিজের স্মৃতি মনে করে গিলক্রিস্ট বলেন, ‘ট্র্যাডিশনাল গ্রীষ্মকালীন টেস্ট ম্যাচগুলোর মতো এখানে আলো আর নজরদারির চাপ এতটা ছিল না। সেখানে পরিবেশটা কিছুটা বেশি আরামদায়ক ও রিল্যাক্সড মনে হয়েছিল। বিষয়টি বেশ সতেজ অনুভূতির। আমার যতটুকু মনে পড়ে, এটা একদম নতুন ছিল। একটু ভিন্ন ধরনের।

গিলক্রিস্ট বলেন, ‘তবে একটি টেস্ট ম্যাচের জন্য, এটি পরিচিত অন্যান্য ভেন্যুগুলোর পরিবেশ থেকে একটা ভিন্ন স্বাদ এনে দেয়। আমার মনে হয়, পরিবেশের এই নতুনত্ব পুরো দলের মাঝে সত্যি একটি রোমাঞ্চকর আমেজ নিয়ে আসতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘যতদূর মনে পড়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইনের টেস্ট ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলাম, কেয়ার্নসে ব্যাটিংয়ে যাওয়া হয়নি। ছেলেরা সেখানে বেশ ভালো ব্যাট করেছিল।’
সেবার ডারউইনে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৯৭ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর, ৭ উইকেটে ৪০৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। সেঞ্চুরি করেন ড্যারেন লেম্যান ও অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ। সাতে নেমে স্বভাবজাত ব্যাটিংয়ে ৪৭ বলে ৪৩ রান করেন গিলক্রিস্ট। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ১৭৮ রানে। ইনিংস ও ১৩২ রানে ম্যাচ জেতে অস্ট্রেলিয়া। পরের টেস্টে কেয়ার্নসে প্রথম দিনে বাংলাদেশের রান এক পর্যায়ে ছিল ১ উইকেটে ১৫৫। পরে ইনিংস শেষ হয় ২৯৫ রানে। এবার অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরা প্রবলভাবে ভোগায় বাংলাদেশি বোলারদের। আরেকটি সেঞ্চুরিতে লেম্যান করেন ১৭৭, ওয়াহ এবার অপরাজিত থাকেন ১৫৬ রানে, সেঞ্চুরি করেন মার্টিন লাভও। লাভের শতরানের পরই ৪ উইকেটে ৫৫৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। সাত নম্বরে নামার অপেক্ষায় থাকা গিলক্রিস্ট সুযোগ পাননি ব্যাটিংয়ের। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশকে ১৬৩ রানে মুড়িয়ে ওয়াহর দল ম্যাচ জিতে নেয় ইনিংস ও ৯৮ রানে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন