বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ব্যানার উড়িয়ে উল্লাস করায় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের কড়া সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতি মেলানো উচিত নয়- এই অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, দিয়েগো ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক গোলও ফকল্যান্ড দ্বীপ ফিরিয়ে দেয়নি। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ফকল্যান্ড বা মালভিনাস দ্বীপ নিয়ে এই মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর মাঠে ফকল্যান্ড সংবলিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করে আলবিসেলেস্তেরা। ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’- লেখা সেই ব্যানারটির কারণে বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। এবার সেই ঘটনায় আরেকবার ক্ষোভ প্রকাশ করলেন খোদ তাদের দেশেরই প্রেসিডেন্ট। এর আগে এই ধরনের উদযাপনকে তিনি ‘অবিবেচকের মতো কাজ’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
রাজনীতি থেকে খেলাধুলাকে আলাদা রাখার পক্ষে যুক্তি দিয়ে মিলেই বলেন, ‘তেল আর পানির মিশ্রণ কোনোভাবেই ভালো কিছু নয়।’ ভিয়েতনাম যুদ্ধ প্রসঙ্গে এলভিস প্রিসলির অবস্থানের কথা টেনে এনে তিনি বলেন, ‘এলভিসকে যুদ্ধ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন যে, তিনি একজন শিল্পী এবং রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেন না। এখানেও বিষয়টি একই রকম। এটি একটি খেলা। তেল আর পানির মিশ্রণ ঘটাতে নেই।’
খেলোয়াড়দের আবেগকে কিছুটা ছাড় দিলেও রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের কথা জানান মিলেই। তিনি বলেন, ‘উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে খেলোয়াড়েরা আবেগের বশে এমন কাজ করতেই পারেন। তবে রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ তাদের বক্তব্য যুদ্ধের ঘোষণা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।’
১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত হ্যান্ড অব গড গোলের প্রসঙ্গ টেনে মিলেই আরও বলেন, ‘আমাদের শান্ত থাকতে হবে। ইংরেজদের বিপক্ষে ম্যারাডোনার গোল বা অন্য যেকোনো গোল ফকল্যান্ড দ্বীপগুলোকে আমাদের ফিরিয়ে দেয়নি। এগুলো আমাদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়নি।’ কূটনৈতিক ফ্রন্টে নিজের সরকারের সাফল্যের দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘকে চাপ সৃষ্টি করতে বাধ্য করেছি যাতে ইংল্যান্ড আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হয়, এবং সেটি হয়েছে। আমরা এতটাই কার্যকর কূটনৈতিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছি যে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ইংল্যান্ডের কিছু অংশও আমাদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।’
দ্বীপ পুনরুদ্ধারের একমাত্র পথ হিসেবে কূটনীতিকেই বেছে নেয়ার ওপর জোর দিয়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জানান, খেলোয়াড়েরা কূটনীতির অংশ নন। তাই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতি ও খেলাধুলাকে আলাদা রাখাই শ্রেয়।
