মাধবদীর বহুল আলোচিত আমেনা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। ইতিমধ্যেই, এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে
গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
শুক্রবার সকালে নরসিংদীর মাধবদীতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মাধবদী থানায় নিহত আমেনার পরিবারের পক্ষ থেকে ৯ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ও র্যাব এজাহারনামীয় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- কোতোয়ালিরচর এলাকার এবাদুল্লাহ (৪০), বিলপাড় এলাকার মহিষাশুড়া ইউপি’র সাবেক সদস্য আহাম্মদ আলী (৬৫), হোসেন বাজার এলাকার আইয়ুব (৩০), একই এলাকার গাফফার (৩৪) এবং ইমরান দেওয়ান (৩২)। এদের মধ্যে আহাম্মদ আলী মহিষাশুড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি এবং এবাদুল্লাহ জামায়াতের কর্মী বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনার মূল আসামি কোতোয়ালিরচর এলাকার শাহজাহানের ছেলে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা এখনো পলাতক।
এদিকে, আমেনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, মিডিয়াকর্মী, বিশিষ্টজন ও সাধারণ নাগরিক-সবার কণ্ঠে একটাই দাবি, দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মাধবদীসহ ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এ ছাড়া নরসিংদী সদর আসনের এমপি খায়রুল কবির খোকন এবং একই আসনে জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী মো. ইব্রাহীম ভূঁইয়াসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
প্রসঙ্গত, গত ১০ই ফেব্রুয়ারি রাতে প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) কৌশলে আমেনা আক্তারকে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতোয়ালিরচর এলাকায় চৈতি টেক্সটাইল মিলের পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা কয়েকজন সহযোগী মিলে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ এবং কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেয়। পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে বাদীর পরিবার পুলিশে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে প্রভাবশালীরা পরিবারটির ওপর চাপ প্রয়োগ করে এবং পরে অভিযুক্তদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে কোনো বিচার না করে বরং পরিবারকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। ২৫শে ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমেনার বাবা মেয়েকে খালার বাড়িতে পৌঁছে দিতে বের হলে কোতোয়ালিরচর বড়ইতলার তিন রাস্তার মোড় থেকে নূরা ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সারা রাত খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন ২৬শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টার দিকে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতোয়ালিরচর দড়িকান্দি এলাকায় একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আমেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার ঠোঁট ও মুখ রক্তাক্ত ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

কে এম রাসেল আহসান
৩ মাস আগেযেহেতু অপরাধীরা মুসলিম সেহেতু তাদের ইসলামি শরিয়তের বিধান মোতাবেক বিচার দাবী করছি ।