অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিকে এসে ‘বার্নিং ইস্যু’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটের বিমানের সরাসরি ফ্লাইট বন্ধের বিষয়টি। এ নিয়ে প্রবাসীরা সিলেটের রাজপথ কাঁপিয়েছেন। নানা কর্মসূচি পালন করলেও বিমান কর্তৃপক্ষ রহস্যময় কারণে সিদ্ধান্ত থেকে সরে যায়নি। বরং শত প্রতিবাদের মুখেও বিমান বাংলাদেশ ওই রুটে ফ্লাইট বন্ধের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে। বিমানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১লা মার্চ থেকে এ রুটে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শুধু এটিই নয়, বিমান ম্যানচেস্টার অফিস নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে খোলামেলা কথা বলেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন- ‘ম্যানচেস্টার ফ্লাইট বাতিল হবে না, হজ যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।
আগামীতে এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা কথা বলে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ এক বছরের মধ্যে সার্বিক বিষয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পারবেন।’ সিলেট উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন- ‘সিলেট বিভাগের উন্নয়নে আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সম্মিলিতভাবে কাজ করতে চাই। সিলেটের মহাসড়ক, রেল, বিমানের সমস্যা সমাধানে আমার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি, লাগেজ নিয়ে টানাটানি প্রতিরোধ করা, প্রবাসীরা যাতে এয়ারপোর্টে এসে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পায় জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন- ‘আমরা তো সবে মাত্র চেয়ারে বসলাম। সিলেট বিভাগের সব এমপিরা একসঙ্গে বৈঠকে বসবো। সবারই তো ধারণায় আছে কী কী করতে হবে। সব নিয়ে আলোচনার পর সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিলেট উন্নয়নে কাজ শুরু করা হবে।’ তিনি বলেন- ‘সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে কাজ দ্রুত করার উদ্যোগ নিতে হবে। রেলপথকে আধুনিকায়ন, বগি বাড়ানোর উদ্যোগী হতে হবে। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করতে হবে। এ ছাড়া সিলেট-তামাবিল ফোরলেন প্রকল্পের দ্রুত কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এজন্য জনপ্রতিনিধি ছাড়াও সকল মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।’ এক সময় সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের কাছে থেকেছেন আরিফুল হক চৌধুরী। ফলে সিলেটের অনেক উন্নয়নে তিনি সাক্ষী। আর মেয়র থাকাকালে তার হাত ধরে সিলেট নগরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ফলে আরিফুল হক চৌধুরীর নখদর্পণে রয়েছে উন্নয়নের চিত্র। এখন কাজ হচ্ছে টিমওয়ার্ক করা।
সিলেট অঞ্চলে মন্ত্রী হয়েছেন দু’জন। এরা হচ্ছেন; বাণিজ্যসহ তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তাদের ওপরই পড়েছে এখন উন্নয়নের দায়িত্ব। একইসঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হয়েছেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী। এদিকে- এমপি হিসেবে নিজের সংসদীয় আসনে উন্নয়নের দিকে নজর রয়েছে আরিফুল হক চৌধুরীর। সিলেট-৪ আসনটি এখনো অবহেলিত। বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় এ আসনের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ চোরাচালান এবং পাথর ও বালু লুটের সঙ্গে সম্পৃক্ত। পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন না হওয়ার কারণে অনেক এলাকা এখনো উন্নয়নের মহাসড়কে ওঠেনি। শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়নসহ নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে এ এলাকার মানুষ। এমপি হওয়ার পর মন্ত্রী। ফলে আরিফুল হক চৌধুরীর কাঁধে এখন দায়িত্ব বেশি। এজন্য এলাকার উন্নয়নে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। নির্বাচনের আগে থেকেই প্রাথমিক কিছু কাজ তার নির্দেশে শুরু করা হয়েছিল। এতে করে বেশ কয়েকটি সড়ক এখন যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এলাকার মানুষের কাছে উন্নয়নের আস্থা ফিরেছে। এজন্য তারাও সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে সিলেট-৪ আসনের উন্নয়নে সবার আগে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে সিলেট-তামাবিল ফোরলেন প্রকল্প। এ সড়কটি এখন পূর্ব সিলেটের মানুষের কাছে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
