ছুটির দিনে বইমেলায় সমাগম বেড়েছে

ছুটির দিনে বইমেলায় সমাগম বেড়েছে

ফন্ট সাইজ:

ভরদুপুর। রোদের তেজ কম নয়। তবে ফেব্রুয়ারির ঠান্ডা বাতাস সেই তেজ কিছুটা কমিয়ে দিচ্ছে। এরই মাঝে চলছে বইমেলা। আসছেন মানুষ, নেড়ে-চেড়ে দেখছেন বই, তুলছেন ছবি। সরজমিন শুক্রবার দেখা গেছে, উদ্বোধনী 
দিনের চেয়ে কিছুটা বেশি জনসমাগম। তবে নানা জটিলতায় ভাটা পড়েছে বইমেলার নান্দনিকতায়। অধিকাংশ স্টল এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। বড় বড় প্রকাশনীর স্টলেও নেই তেমন নান্দনিকতা। অথচ আগের বছরগুলোতে সৃজনশীল থিমে বেশ নান্দনিকভাবেই সাজিয়ে তোলা হয়েছিল বইমেলার স্টলগুলো।

এবারের বইমেলায় নেই প্যাভিলিয়ন। নান্দনিকতায় ভাটা পড়ার এটিও একটি কারণ। জানা যায়, অনেক প্রকাশক প্যাভিলিয়নের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু বাংলা একাডেমির সিদ্ধান্তে প্যাভিলিয়ন রাখা যাবে না বলে জানানো হয়। ফলে সেসব প্যাভিলিয়ন ভেঙে স্টলে রূপ দিতে হচ্ছে। এদিকে শেষ মুহূর্তে বেশ কিছু স্টলও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ফলে নতুন করে জায়গা করে দিতে হচ্ছে তাদেরও।

কিছু স্টলে বই উঠেছে, কোথাও এখনো ওঠেনি। কোথাও কেবল বাঁশের কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া রং করা, সাজসজ্জাসহ আরও নানা কাজ এখনো বাকি। তবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ অংশে এমনটা দেখা যায়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ঈদের আগে নাকি ঈদের পর বইমেলা হবে- এ নিয়ে ছিল দ্বিধাদ্বন্দ্ব। স্টলের নান্দনিকতায় বাড়তি খরচ বহন করতে হবে কিনা, সে নিয়েও প্রকাশকদের মাঝে অনিশ্চয়তা ছিল। সবকিছু মিলিয়ে এ অবস্থায় এসে পৌঁছেছে এবারের বইমেলা।

সবকিছু ছাপিয়েও মানুষ আসছেন। ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে শুরু হয় বইমেলা, চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। রমজানে দিনের বেলা মানুষের সমাগম কিছুটা কম হলেও বিক্রেতারা আশা করছেন রাতে দর্শনার্থীর উপস্থিতি বাড়বে। রমজান উপলক্ষে বইমেলায় মানুষের সমাগম নিয়েও রয়েছে প্রত্যাশা।
মেলায় আসা মার্জিয়া রহমান বলেন, এদিকে এসেছিলাম একটা কাজে। সেই ফাঁকে একটু বইমেলায় এলাম। তবে আগের চেয়ে কম সৌন্দর্য মনে হচ্ছে এবার। মানুষও কম।

উত্তরা থেকে আসা নাজিমুর দিহান বলেন, বইমেলায় এসেছি। ভালো লাগছে। মূলত ছাড়ের জন্য আসা। তবে এসে দেখছি অনেক স্টলে বই এখনো ওঠেনি। কিছুটা অপ্রস্তুত লাগছে বলতে হবে।
স্পন্দন বি প্রকাশনীর স্টলের আরেফিন আহমেদ বলেন, আমরা অনেক বেশি দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম- প্যাভিলিয়ন করা হবে কিনা, বইমেলা কখন হবে, রোজার পর নাকি ঈদের আগে। নির্বাচনের পর ১৯ তারিখে একটি তারিখ দেয়া হয়েছিল, কিন্তু সেটিও পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে আমরা নান্দনিকতায় সময় দিতে পারিনি।
ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের স্টলের সাব্বির বলেন, অনেকে প্যাভিলিয়ন দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেগুলো ভেঙে ফেলতে হয়েছে। গত রাতে এসে দেখি, কেউ কেউ সবে কাজ শুরু করেছেন। ফলে কিছুটা সাদামাটাভাবেই শুরু হলো বইমেলা।

প্রসঙ্গত, ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে শুরু হয়েছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার বেলা দুইটায় বইমেলার উদ্বোধন করেন। আগামী ১৫ই মার্চ পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণ করছে ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রকাশনা তাদের স্টল করেছে। মোট ইউনিট থাকবে ১ হাজার ১৮টি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন