রাজধানীর সবুজবাগে বিএনপিকর্মী ইব্রাহীম পলাশকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে হত্যায় জড়িত ৩ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। আধিপত্য বিস্তার নাকি পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ড তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, অভিযুক্তের মা-বাবাকে মারধরের ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্র বলছে, নিহত পলাশ এবং প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা হোসেন রয়েল পূর্বপরিচিত। দু’জনই স্থানীয় বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের ৩ দিন আগে টাকা লেনদেন নিয়ে মোস্তফার সঙ্গে নিহত পলাশের বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দু’জনের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় রয়েলের মা-বাবা দু’জনকে থামাতে গেলে পলাশ তাদের মারধর করেন। তদন্তকারীদের মতে, মা-বাবাকে মারধরের প্রতিশোধ নিতেই পরিকল্পিতভাবে পলাশকে হত্যা করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, হামলার আগে রয়েলের সঙ্গে চলাফেরা করা কয়েকজন এসে পলাশকে দেখে যায়। তারা গিয়ে ‘ক্লিয়ারেন্স’ দেয়ার পরই রয়েল প্রকাশ্যে এসে পলাশকে কুপিয়ে হত্যা করে।
২১শে জুলাই রাত সোয়া আটটার দিকে সবুজবাগের বাগপাড়া পানির পাম্পসংলগ্ন এলাকায় পলাশকে রামদা ও চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার দুই হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার বুকেও আঘাত করে হামলাকারীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পলাশ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর এলাকার আবুল বাশারের ছেলে। পেশায় প্রাইভেটকারের চালক। সবুজবাগের ৭১ নম্বর মাদারটেক এলাকায় বসবাস করতেন তিনি।
এ ঘটনায় নিহত পলাশের বড় বোন জোছনা বেগম বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মোস্তফা, সবুজ ও শফিককে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত আটটার দিকে বাগপাড়া পানির পাম্পসংলগ্ন সোহাগের চায়ের দোকানের সামনে ১৫-২০ জন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন পলাশ। রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে হঠাৎ মোস্তফা হোসেন রয়েল এসে সামুরাই দিয়ে তাকে কোপাতে শুরু করেন। এ সময় পলাশ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা পিছু ধাওয়া করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। হামলাকারীরা পলাশকে পাশের একটি গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে কুপিয়ে তার দুই হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করে তা নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ফুটেজে মো. সবুজ (২৮), শফিক নামের আরও দু’জনকে দেখা যায়, তারা মোস্তফার সহযোগী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা হোসেন রয়েল (৩৭) সবুজবাগের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। পাশাপাশি সে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। তার বিরুদ্ধে চুরি, চাঁদাবাজি, মারধর, হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন অভিযোগে সবুজবাগ থানায় সাতটি মামলা রয়েছে। সর্বশেষ গত ১৬ই জুন তার বিরুদ্ধে একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করা হয়। নিহত পলাশ ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র কর্মী ছিলেন, যদিও তার কোনো সাংগঠনিক পদ ছিল না।। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন বিরোধের সালিশ করতেন তিনি।
সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, টাকা লেনদেন নিয়ে নিহত পলাশের সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত রয়েলের বিরোধ ছিল। তিনদিন আগে তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় অভিযুক্ত মা-বাবা থামাতে আসলে তাদের মারধর করেন নিহত পলাশ। মূলত মা-বাবার গায়ে হাত তোলার প্রতিশোধ নিতেই পলাশকে হত্যা করা হয়। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
