মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় দুবাই প্রবাসী সোহেল মিয়ার কাছ থেকে দশ লাখ টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি না করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ভোগদখলে থাকা প্রবাসীর ৫৭ শতক জমির ধান ট্রাক্টর দিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করারও অভিযোগ উঠেছে জমি বিক্রেতা প্রবাসীর চাচাতো ভাই ইছহাক মিয়াসহ তার ছেলেদের বিরুদ্ধে। এছাড়া প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি করে আহত করার ঘটনায় কুলাউড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার বিকালে ভুক্তভোগী তার জমি রেজিস্ট্রি দাবি ও স্ত্রীকে নির্যাতনের বিচার চেয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কুলাউড়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সম্মেলনে ভাটেরা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালামের ছেলে প্রবাসী সোহেল জানান, ২০০৬ সালে দশ লাখ টাকা দিয়ে আমার চাচাতো ভাই ইছহাকের কাছ থেকে ক্রয় করি। তবে টাকা গ্রহণ করে উল্লিখিত ভূমি আমাকে দখল বুঝিয়ে দিলেও জমি রেজিস্ট্রি করে দেননি।
এ বিষয়ে ইছহাককে জমি রেজিস্ট্রি করার কথা বললে তিনি জানান, তোমরা জমি ভোগদখল করো পরবর্তী সময়ে রেজিস্ট্রি করে দেবো। এরপর থেকে জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়ার কথা বললে ইছহাক সময়ক্ষেপণ করেন। পরে ছুটি কাটিয়ে গত ৩০শে জুন আমি প্রবাসে চলে যাই। এ সুযোগে ইছহাক গংরা গত ২১শে জুলাই দুপুরে আমার রোপণকৃত ধানী জমিতে হালচাষ করেন। এ সময় আমার স্ত্রী প্রতিবাদ করলে ইছহাক, তার ছেলে আব্দুল আহাদ, মধু মিয়া ও আকুল মিয়া তাকে মারধর করে শ্লীলতাহানি করে। এ সময় স্ত্রীর গলায় থাকা ১ ভরি স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক নিয়ে যায়। তিনি বলেন, এ ঘটনায় গত ১১ই জুলাই সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত হলেও ইছহাক গংরা বৈঠকে হাজির হননি।
পরে গত ২২শে জুলাই আমার স্ত্রী বাদী হয়ে ইছহাকসহ তার তিন ছেলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়ে ইছহাকের ছেলে আব্দুল আহাদ মুঠোফোনে বলেন, সোহেল বর্তমানে যে জমিটি তার বলে দাবি করছেন সেটি আমাদের মালিকানাধীন। সোহেল অন্য দাগে আমাদের কাছ থেকে ৮ লক্ষ টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করেন। ওইসময় তাদের ত্রুটির কারণে জমি রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। কুলাউড়া থানার এসআই সাদেক আলী বলেন, সরজমিন তদন্তে কৃষি জমির ক্ষতিসাধনের প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
