বিচার চাওয়ায় উল্টো শোকজ খেলেন লাঞ্চনার শিকার শিক্ষক

কুবি আইন বিভাগে বিতর্ক

বিচার চাওয়ায় উল্টো শোকজ খেলেন লাঞ্চনার শিকার শিক্ষক

ফন্ট সাইজ:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগে একাডেমিক কমিটির সভাকে কেন্দ্র করে লাঞ্ছনা, শারিরীক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করার অভিযোগ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সহকর্মী শিক্ষকের বিরুদ্ধে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করার পরই উল্টো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শোকজ নোটিশ পেয়েছেন অভিযোগকারী শিক্ষক-এ ঘটনায় শিক্ষক মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে আইন বিভাগসহ ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা চলছে। শিক্ষকরা বলছেন, একাডেমিক পরিবেশ ও পারস্পরিক সম্মান রক্ষায় নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে আইন বিভাগের ১২১তম একাডেমিক কমিটির সভা চলাকালে কোর্স বণ্টন নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই সভায় উপস্থিত সহকারী অধ্যাপক মো. আবু বকর সিদ্দিক অভিযোগ করেন, বিভাগের একজন সহকারী অধ্যাপক মু. কাজেম মোর্শেদ শিক্ষক তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

ঘটনার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেন। অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেন, সভার আনুষ্ঠানিক পরিবেশ ভেঙে তাকে অপমান করা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় তিনি পুনরায় বিচার প্রার্থনা করেন। তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে জারি করা এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককেই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, একাডেমিক কমিটির সভায় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আচরণগত অভিযোগ উঠেছে এবং এ বিষয়ে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন মানবজমিনকে বলেন, ২০২৩ সালে দায়ের করা অভিযোগটি কেন ২০২৬ সালে পুনরায় দাখিল করা হয়েছে তা পরিষ্কার করতে হবে। অভিযোগ দায়েরের পর প্রশাসনকে কি চিঠি দেয়া হয়েছিল এবং আপডেট নেয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকলে তা কেন সম্পন্ন করা হয়নি-এসব জবাব দেবার দাবি আছে। প্রথম আবেদনে ‘অ্যাটেম্পট টু মার্ডার’ উল্লেখ ছিল না; এখন কেন তা যোগ করা হলো, যদি পূর্বে অভিযোগ মিউচুয়াল করা হয়ে থাকে তাহলে নতুন করে কেন আবেদন করা হলো-এইসব বিষয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রয়োজন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মু. আলী মুর্শেদ কাজেম মানবজমিনকে বলেন, ২০২৩ সালে যে ঘটনা তা তখনই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। সেটিই কেন আবার ২০২৬ সালে আনা হলো, সেটা পরিষ্কার করতে হবে। ওই সময় পর্যন্ত অভিযোগ মিটে যাওয়ার পরও এখন দুরভিসন্ধিমূলক ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বারবার একই ইস্যু তোলা হচ্ছে।

এছাড়া অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে ব্যাক-ডেট করে প্ল্যানিং জমা দেয়ার, সাবেক চেয়ারম্যানকে ডেকে এনে সই করানোর ও মিথ্যা তথ্য সৃষ্টি করার বিষয়গুলো তদন্তের দাবি আছে। আমরা চাই কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেবেন এবং সত্য নিরূপণে তদন্ত প্রকাশ করা হবে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের শিক্ষক মো. আবু বকর ছিদ্দিক মানবজমিনকে বলেন, ২০২৩ সালের ঘটনার সময় লিখিত অভিযোগ দাখিলে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল।

তখনকার উপাচার্য আব্দুল মঈন আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযোগ জমা না দিতে বলেছিলেন, ফলে বিষয়টি সময়মতো অনুসরণ হয়নি। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিরতা ও কর্মবিরতির কারণে অভিযোগটি কার্যকরভাবে তোলা যায়নি; তারপরও প্রশাসন যথাযথ তদন্ত না করে আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে। যা আমি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করছি না এবং এটি পক্ষপাতিতাত্বিক বলেই মনে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মানসিকভাবে তৎসময়ে এতটাই বিপর্যস্ত ছিলাম যে ‘অ্যাটেম্পট টু মার্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করতে পারিনি, কিন্তু ঘটনার বিবরণ থেকে সেটাই আমার কাছে স্পষ্ট মনে হয়েছে। আমি চাই প্রশাসন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবে, পূর্বপক্ষপাত দূর করবে এবং ঘটনার প্রকৃতি অনুসারে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। নাহলে আমি প্রতিকার ও ন্যায়ের জন্য আনুগত্যসহ সব আইনি ও প্রযোজ্য পথ অনুসরণ করব।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন