দুই মাস বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের রাউজানে আবার শুরু হয়েছে খুনোখুনি। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পূর্বগুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে প্রকাশ্যে যুবদলের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
ঘটনাস্থলটি পূর্বগুজরা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে। নিহত ব্যক্তির নাম মুহাম্মদ আবদুল মজিদ (৫০)। তিনি অলিমিয়াহাট বাজার এলাকার আবদুল মোনাফের ছেলে। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
দলীয় সূত্রের দাবি, নিহত আবদুল মজিদ পূর্বগুজরা ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী ছিলেন। সন্ধ্যায় বাজার থেকে হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা হন আবদুল মজিদ। এ সময় মুখোশ পরা একদল অস্ত্রধারী যুবক মোটরসাইকেলে এসে মজিদকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে হামলাকারীরা দ্রুত সরে পড়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা মজিদকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার চোখের ওপরে, বুকে ও কোমরে তিনটি গুলি লাগে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক।
নিহতের বড় ভাই আবদুল আজিজ বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, ইফতারের আগে একটি চায়ের দোকানে আমার ভাইয়ের সঙ্গে কিছু যুবকের ঝগড়া হয়েছে। ধারণা করছি, ঘটনাটি তারাই ঘটিয়েছে। নিহতের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বলেন, ইফতার শেষ করে বাসা থেকে বের হন আবদুল মজিদ। অলিমিয়াহাট বাজারে একটি দোকানে বসা ছিলেন। সেখান থেকে বের হওয়ার পর গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগেও আমার স্বামীর ওপর হামলা করা হয়েছিল। তখন বেঁচে যান। এবার গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
এদিকে, নিহত আবদুল মজিদের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বৃহস্পতিবার রাউজান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম জানান, ঘটনার প্রায় ২০ মিনিট আগে নিহত ব্যক্তি ও সন্দেহভাজনদের মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। আর অপরাধীদের আটকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে পুলিশ। এর আগে ৫ই জানুয়ারি অলি মিয়ারহাট থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে যুবদল নেতা জানে আলম শিকদারকে একই কায়দায় মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি রাউজান উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পূর্বগুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি। শিকদারপাড়া এলাকায় তার বাড়ি। বুধবার নিহত মজিদ সেই জানে আলম শিকদারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। জানে আলমের খুনিরাই মজিদ হত্যার সঙ্গেও সম্পৃক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, রাউজানে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ২১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী সমর্থিত নেতাকর্মী ১৩ জন, আওয়ামী লীগের ৫ জন এবং তিনজন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারী।
