নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তখন উল্লাসের লাল-হলুদ সুনামি। আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের ফুটবলাররা যখন ট্রফি উঁচিয়ে ধরছেন, ডাগআউটে দাঁড়িয়ে তখন এক চিলতে মৃদু হাসছিলেন ৬৫ বছর বয়সী এক ভদ্রলোক। তিনি লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে যখন লুইস এনরিকের বিদায়ের পর তাকে স্পেনের প্রধান কোচ করা হয়, তখন ফুটবল বিশ্বের অনেকেই ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করেছিলেনÑ ‘তিনি আবার কে?’ সাড়ে তিন বছর পর, সেই ‘অনামী’ দে লা ফুয়েন্তেরই হাত ধরে স্পেন ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সফল অধ্যায় রচনা করলো।
২০২৩ সালের নেশনস লীগ, ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং এবার ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ!
ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত স্প্যানিশ বস বলেন, ‘সবকিছু আগে থেকেই লেখা ছিল এবং আমরা এটার যোগ্য। এই দল এবং আমাদের চমৎকার সমর্থকরা সবকিছু পাওয়ার অধিকার রাখে। ভাগ্যবিধাতার সঙ্গে আমাদের একটি সাক্ষাৎ নির্ধারিত ছিল এবং আমরা সেটা সফল করতে চেয়েছিলাম।’
১৯৬১ সালে জন্ম নেয়া দে লা ফুয়েন্তের ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ার বেশ সমৃদ্ধ হলেও, কোচ হিসেবে শুরুটা মোটেও রাজকীয় ছিল না। ২০১১ সালে স্পেনের তৃতীয় স্তরের ক্লাব আলাভেসের হয়ে সিনিয়র কোচ হিসেবে মাত্র ১১টি ম্যাচে টিকে ছিলেন তিনি। ব্যর্থতার দায়ে বরখাস্ত হওয়ার পর প্রায় দুই বছর মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। তবে ২০১৩ সালে স্পেনের যুব দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়াটাই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২১ এবং অলিম্পিক দলের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি গড়ে তোলেন স্পেনের বর্তমান ‘স্বর্ণালি প্রজন্ম’কে। আজকের রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, মিকেল মেরিনো কিংবা উনাই সিমনÑ এরা সবাই দে লা ফুয়েন্তের হাত ধরে কৈশোর পার করেছেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়ার পর ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘খেলোয়াড়রা আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, আমাদের আর কী জেতার বাকি আছে? আমরা সবাই মিলে হিসাব করে দেখলাম, আমাদের সামনে এখন সেপ্টেম্বর মাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নেশনস লীগের ম্যাচ। কারণ এই দলটি নিরলস, তারা কখনোই ক্লান্ত হয় না।’
বিশ্বকাপের আগে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া এবং বোর্হা ইগলেসিয়াস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, স্পেন ট্রফি জিতলে তারা শরীরে কোচের মুখের ট্যাটু আঁকবেন। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের হাসতে হাসতে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘ট্যাটু আঁকার জন্য আমার বয়স পার হয়ে গেছে। তবে আমার খেলোয়াড়রা কথার মানুষ, তারা তাদের কথা রাখবে। তারা একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল (হেসে), তবে আমি তো আর দেখতে এতটাও খারাপ নই! শরীরের এমন কোনো জায়গায় ট্যাটুটি আঁকা হোক, যেখানে সহজে চোখ পড়ে না।’
