মেসিকে ছাপিয়ে গোল্ডেন বল কেন রদ্রির

মেসিকে ছাপিয়ে গোল্ডেন বল কেন রদ্রির

ফন্ট সাইজ:

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১০৬ মিনিটে ফেররান তোরেসের শটে আর্জেন্টিনার জাল কাঁপলো। আলবিসেলেস্তেদের ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বজয়ের মুকুট মাথায় তুললো স্পেন। তবে এই ফাইনালকে ছাপিয়ে ফুটবল বিশ্বের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’। লিওনেল মেসিকে টপকে স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রির হাতে এই সোনালি ট্রফি ওঠা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তবে ফুটবল পণ্ডিতদের মতে, এটি কোনো আবেগ বা সান্ত্বনার পুরস্কার ছিল না। বরং রদ্রিই ছিলেন এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী ফুটবলার।

ফাইনাল ম্যাচের স্কোরলাইন ১-০ দেখালেও স্পেনের আধিপত্য ছিল একচেটিয়া। পুরো ম্যাচে লা রোহারা যেখানে প্রথম ২০টি আক্রমণ চালায়, সেখানে আর্জেন্টিনা তাদের প্রথম শটই নিতে পারে ম্যাচের ১১৭ মিনিটে। গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজের রেকর্ড ১২টি সেভ না থাকলে প্রথমার্ধেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। ৮ ম্যাচে মাত্র ১ গোল হজম করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে নিñিদ্র রক্ষণের রেকর্ড গড়েছে স্প্যানিশরা, যার পুরো কৃতিত্ব মাঝমাঠের জেনারেল রদ্রির। ৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি টুর্নামেন্টে ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে নিজের মহত্ব প্রমাণ করেছেন। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে গোল এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর কারিগর ছিলেন তিনিই। তবে গোল্ডেন বলের নিয়ম হলো, এটি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক ও প্রভাবশালী ফুটবলারকে দেয়া হয়, সর্বোচ্চ গোলদাতাকে নয়। মেসি যখন নকআউটের শেষ ভাগে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে এসে গোলহীন রইলেন, তখন আর্জেন্টিনার অতি-নির্ভরশীলতা তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ালো। আর স্পেন খুব সহজেই মেসিকে বিপজ্জনক জোনে বল পাওয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
অন্যদিকে, রদ্রিকে ম্যাচ জেতাতে কোনো গোল বা অ্যাসিস্টের প্রয়োজন হয়নি। ফাইনালে নামার আগেই তিনি টুর্নামেন্টে রেকর্ড ৬৪৮টি সফল পাস সম্পন্ন করেন ৯৩ শতাংশ নির্ভুলতায়। ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ১০৬টি পাসের মধ্যে ১০১টিই সফল করেন তিনি, যার মধ্যে ৫৭টি পাস ছিল আর্জেন্টিনার অর্ধে। মেসির ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান চোখধাঁধানো হলেও, রদ্রি ম্যাচের পরিবেশটাই নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। সেখানে মেসির জাদু ছড়ানোর কোনো সুযোগই ছিল না।

২০২৪-২৫ মৌসুমে ভয়াবহ এসিএল ইনজুরিতে পড়ার পর অনেকেই রদ্রির ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেলেন। তবে স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তার এই সেরা অস্ত্রের ওপর ধৈর্য ধরেন। ফাইনালে ৯৪ শতাংশ পাসিং রেট এবং মাঝমাঠে ৮টি ডুয়েল জিতে রদ্রি প্রমাণ করেছেন কেন কোচ তাকে বিশ্বের সেরা মনে করেন। কিলিয়ান এমবাপ্পের ২২ গোলের রেকর্ড কিংবা আর্লিং ব্রুট হালান্দের বীরত্বকে ছাপিয়ে রদ্রির এই শৈলী অনন্য। ২০২৪ সালে ইউরো জয়ের পর এবার বিশ্বকাপ জয় এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় তিনি। সবমিলিয়ে রদ্রির দ্বিতীয় ব্যালন ডি’অর জয়কে এখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন