৫ই আগস্ট তরুণ সমাজ দেখিয়ে দিয়েছে দেশকে কী করে পরিবর্তন করতে হয়- উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি। আছেন আমার সঙ্গে? আছেন, ইনশাআল্লাহ। তাহলে কথা একটাই- এখন কাজ, কাজ, কাজ এবং পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন। তিনি বলেন, এটাই হতে হবে আমাদের আগামী দিনের মূল লক্ষ্য। একটি পরিচ্ছন্ন পরিবার, একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ, সবার আগে বাংলাদেশ। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিণ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী, বিএনসিসি, স্কাউটস, গার্লস গাইড, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনলাইনে সারা দেশের সব জেলা প্রশাসনও যুক্ত ছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা রাস্তাঘাট দিয়ে যখন যাই, আমরা দেখি বহু মানুষ অসচেতনভাবে যেখানে সেখানে যত্রতত্র আবর্জনা ও ময়লা ফেলে দিচ্ছে। আসুন না আমরা সকলে মিলে তাদেরকে সচেতন করার চেষ্টা করি। প্রত্যেকটা মানুষ যদি আমরা চেষ্টা করি, আমরা পরিবর্তন করতে পারবো। যারা ময়লা করবে, যারা আবর্জনা তৈরি করবে- আমরা তাদেরকে নিরুৎসাহিত করি, আমরা তাদেরকে বলি যে, ময়লা করবেন না। আমরা কী পারবো কাজটা? এ সময় উপস্থিত সবাই সমস্বরে বলে উঠেন ‘আমরা পারবো’।
তিনি বলেন, আসুন নিজেকে সুস্থ রাখি আমরা, নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখি, নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি। নিজের দেশকে আমরা সুস্থ রাখার চেষ্টা করি। এই কাজটা কিন্তু খুব কঠিন না। আজকে হয়তো আপনাদের একটু কষ্ট হবে। প্রতি সপ্তাহে আপনি যদি আপনার নিজের বাসা হোক, স্কুল হোক, কলেজ হোক, প্রতিষ্ঠান হোক-একটা ঘণ্টা করে যদি প্রতিষ্ঠানে সময় দেই, যে যেই বাসাটায় থাকি আমরা, যেই জায়গাটায় কাজ করি আমরা, যেই প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ি করি আমরা, যেখানেই থাকি না কেন আমরা একটা ঘণ্টা যদি সেই জায়গা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন করার জন্য কাজ করি তাহলে অবশ্যই দ্রুততার সঙ্গে আমরা সফল হবো।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের কাছে আমি একটা সাহায্য চাই।
আমার সঙ্গে শুধু আপনারাই এই মাঠে দাঁড়িয়ে আছেন তাই নয়। অনলাইনে সবগুলো জেলা আজকে এখানে কানেক্টেড আছে। সেই জেলাগুলোতে আপনাদের মতো গার্লস গাইড, বিএনসিসি, স্কাউটস, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ভলেন্টিয়ারসহ ওসব জেলাতে দাঁড়িয়ে আছে, সবাই সবার কাছে একটি সাহায্য দরকার আমার। কেন সাহায্য দরকার? আমি একটা হিসাব দিচ্ছি আপনাদেরকে। আমি যতটুকু জানি বাংলাদেশের স্কাউটসের সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ, বিএনসিসি সদস্যের সংখ্যা ২২ হাজার। এ ছাড়া প্রাথমিক স্কুল, মাদ্রাসা ছাড়া সারা দেশে হাই স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি আর প্রাথমিক স্কুল-মাদ্রাসাসহ আড়াই কোটি। এবার আপনারা আমাকে বলেন, এতগুলো মানুষ আমরা যদি দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, কেউ কি ঠেকিয়ে রাখতে পারবে? কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।
সরকারপ্রধান বলেন, এখন আপনাদেরকে দায়িত্ব নিতে হবে দেশটা কীভাবে আমরা গড়ে তুলবো? এই দেশটা আমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে। কারণ এই দেশে আমরা বাস করি। আজকে এই যে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি, এই যে হাজার হাজার মানুষ এই মাঠে, সারা বাংলাদেশের সবগুলো জেলা মিলে লাখ লাখ মানুষ যারা আমরা একত্রিত হয়েছি, আমরা চেষ্টা করবো দেশটাকে পরিচ্ছন্ন করতে। পারবো আমরা? ইনশাআল্লাহ আমরা পারবো। কারণ এই যেই সংখ্যাটা আমি বললাম, একটা দেশের এত বড় তরুণ সমাজ যদি দেশকে পরিবর্তন করতে চায় তাহলে করা সম্ভব। তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট তরুণ সমাজ সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। কাজেই পরিবর্তনের সূচনা সেখান থেকেই তরুণ সমাজ করেছে।
তিনি আরও বলেন, আসুন আগামী তিন মাস আমরা এই যে ডেঙ্গুর সমস্যাটা, এই সমস্যাটার আমরা সমাধান করার চেষ্টা করবো। হয়তো আমরা ১০০% পারবো না, কিন্তু অন্তত ৮০% আমরা পারবো। আপনারা যারা আছেন কম-বেশি অনেকেরই ধারণা আছে যে, কেউ যদি ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়। ঠিক আছে ওষুধপত্র আছে। কিন্তু ডেঙ্গু যে সকল কারণে হয় আমরা সকলেই জানি, এই যে ভাঙাচোরা জিনিসপত্র বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকে, প্লাস্টিকের পাত্র যেটাতে পানি জমে তাতে ডেঙ্গুর এডিস মশা তৈরি হয়। কাজেই আমরা যদি সকলে মিলে চেষ্টা করি, আমরা আমাদের দেশের পরিবর্তন ঘটাতে পারবো।
অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভাপতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সমপ্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বক্তব্য রাখেন।
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার উদ্বোধন: ওদিকে গতকাল বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার আমাদের যে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য, সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে সকল চেষ্টা এবং উদ্যোগ গ্রহণ করবো। আপনাদের (উদ্ভাবক-উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠান-বিনিয়োগকারী) সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন, আপনাদের সাহায্য আমাদের প্রয়োজন, আপনাদের এগিয়ে আসা রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আসুন আমরা সকলে মিলে এরকম একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে কাজ করি, যেখানে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ, সেই রাষ্ট্রকে গড়ে তুলতে সক্ষম হবো। এখন আমি আনুষ্ঠানিকভাবে আজকের বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার এই অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষণা করছি।
তিনদিনব্যাপী বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬ এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ‘ইনোভেট টু মার্কেট’। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই মেলায় দেশীয় উদ্ভাবক ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
মেলায় সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্বতন্ত্র গবেষক, শিক্ষার্থী, নতুন স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান (এসএমই) এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন। মেলায় প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি নতুন ও সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন প্রদর্শিত হচ্ছে।
এ ছাড়া মেলায় কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তর, ফরেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং কারিগরি অংশীদার হিসেবে রয়েছে জাতীয় সংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বক্তব্য রাখেন।
আজ দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য উদ্ভাবন: সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ সমপ্রসারণ’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনার হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
