বিশ্বকাপের ব্যাক-টু-ব্যাক শিরোপা জয়ের স্বপ্নভঙ্গ। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে যখন স্প্যানিশদের উল্লাস, আর্জেন্টিনার ডাগআউটে তখন শুধুই স্তব্ধতা। কাতারের রূপকথা ফিরিয়ে আনার খুব কাছে গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হলো লিওনেল স্কালোনিকে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অপ্রতিরোধ্য স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ের ১-০ গোলের হারে ট্রফি হাতছাড়া করেছে আলবিসেলেস্তেরা। এই চরম হৃদয়ভাঙা হারের পর ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে আবেগের বাঁধ ভাঙলো আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে মাঝপথেই সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে যান ৪৮ বছর বয়সী এই মাস্টারমাইন্ড।
সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনির চুক্তি নবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। অশ্রুভেজা কণ্ঠে আর্জেন্টিনা বস বলেন, ‘আমি সভাপতির সঙ্গে কথা বলব। আমি কী করতে চাই, তা নিয়ে আমার মনে একটা ভাবনা আছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত আমি আছি, তবে আমার মনে হচ্ছে... আমি জানি না এত বড় কিছু আর কখনো করা সম্ভব কি না। আমাদের এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে।’
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে বিদায় নেয়ার আগে স্কালোনি আরও বলেন, ‘এই জায়গাটা দারুণ, এটা একটা স্বপ্নের জায়গা। আমি বা আমার স্টাফরা কখনোই ভাবিনি আমরা আজ এই পর্যায়ে আসব। তবে এখানে টিকে থাকতে হলে অনেক কিছুর প্রয়োজন, বিশেষ করে মানসিকতা নতুন করে সাজানো, রিবুট করা এবং আবারও এমন একটি দল গড়ে তোলা। যেটা নতুন করে তৈরি করা খুবই কঠিন।’ একপর্যায়ে তিনি সবার কাছে দুঃখপ্রকাশ করে আসন ছেড়ে উঠে যান এবং বলেন, ‘এটি সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
‘লিও মেসিই ইতিহাসের সেরা’
ফাইনালে মাঠে নামার আগে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখে আর্জেন্টিনা। তবে ফাইনালে থমাস টুখেলের শিষ্যদের হারানোর সেই চেনা ধার দেখা যায়নি স্কালোনির দলের। পুরো ৯০ মিনিটে একটি শটও নিতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজের অতিমানবীয় কিছু সেভ ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়।
তবে নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগে এনজো ফার্নান্দেজের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটি আরও কঠিন করে তোলে। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের সুপার-সাব ফেররান তোরেসের বুলেট গতির স্ট্রাইক আর্জেন্টিনার সব প্রতিরোধ ভেঙে দেয়।
ম্যাচ শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে ৩৯ বছর বয়সী অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান স্কালোনি। টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত খেলা মেসির এটিই হয়তো শেষ বিশ্বকাপ। ড্রেসিংরুমে কান্নায় ভেঙে পড়া মেসিকে নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘৩৯ বছর বয়সেও সে যেভাবে খেলেছে, তা অবিশ্বাস্য। আমার কাছে সবসময় এটা পরিষ্কার ছিল যে সে যতদিন চাইবে খেলবে, এবং সবাই তাকে সমর্থন করবে। আমি আশা করি সবাই তাকে নিয়ে গর্বিত, কারণ সে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়।’
