বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে কর্মচারী নিয়োগে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নেতৃত্বে নিয়োগ সুপারিশ কমিটি গঠনের নির্দেশনা জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেই পরিপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে কর্মচারী নিয়োগে সুপারিশের ক্ষমতা আবারও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির কাছেই ফিরে গেল।
মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষকব্যতীত অন্যান্য এমপিও পদে নিয়োগের সুপারিশ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এ বিভাগ কর্তৃক গত বছরের ২৮শে আগস্ট জারিকৃত পরিপত্র বাতিল করা হলো।
এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ১০ই জানুয়ারি জারিকৃত নির্দেশমালার ২.৪ এর ক, খ ও গ এ বর্ণিত অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষক/সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ সংক্রান্ত অংশ ব্যতিত অন্যান্য পদে (ট্রেড এসিসট্যান্ট/অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর/অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী/ কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর/গবেষণাগার/ল্যাব সহকারী/নিরাপত্তা কর্মী/পরিচ্ছন্নতা কর্মী/নৈশ প্রহরী/আয়া/অফিস সহায়ক) নিয়োগ সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট অংশ বহাল করা হলো।
এদিকে গত ২৮শে আগস্টের পরিপত্রে বলা হয়েছিল, শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য এমপিওভুক্ত কর্মচারী পদে নিয়োগ সুপারিশ কমিটির সভাপতি হবেন জেলা প্রশাসক। এ কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন সংশ্লিষ্ট জেলার সবচেয়ে পুরোনো সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বা তার প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের একজন প্রতিনিধি (পরিদর্শকের নিচে নয়) এবং সংশ্লিষ্ট জেলার যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপপরিচালক বা সহকারী পরিচালক। কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
এতে আরও বলা হয়, নিয়োগ সুপারিশ কমিটি পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রস্তুত ও নিয়োগের সুপারিশ দেবে। নিয়োগ সুপারিশ কমিটি মৌখিক পরীক্ষার সময় প্রয়োজনে একাধিক বোর্ড গঠন করতে পারবে। জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধির নেতৃত্বে নবম গ্রেডের নিম্নে নয় এমন ৩ সদস্যবিশিষ্ট বোর্ড গঠিত হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা পরিপত্রের আগে নিয়ম ছিল বেসরকারি স্কুল-কলেজের প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক ব্যতীত অন্যান্য পদে অনুসরণীয় নির্দেশমালায় গভর্নিং বডির বা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে নিয়োগ কমিটি গঠন করবে। ওই কমিটির সদস্য ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের বা স্নাতক কলেজের ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ও ডিসির প্রতিনিধি। আর কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান।
