নির্বাচন, পুতিনের হাত আরও শক্ত হচ্ছে

নির্বাচন, পুতিনের হাত আরও শক্ত হচ্ছে

ফন্ট সাইজ:

রাশিয়ার অনেক কিছুই অনুমান করা কঠিন। তবে এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফল কি হবে তা আগেভাইে অনুমান করা গেছে। ক্রেমলিনের কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড রাশিয়া পার্লামেন্টে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে। এমনটাই ব্যাপকভাবে প্রত্যাশিত। নির্বাচনে কোনো অঘটন ঘটেনি। তবে এতে কোনো চমকও ছিল না। কার্যকর কোনো বিরোধী দল ছাড়া এই নির্বাচনে অন্য কোনো দলই তাদের ধারেকাছেও যেতে পারেনি। প্রাথমিক ফলাফল বলছে, ইউনাইটেড রাশিয়া রাষ্ট্রীয় দুমা’য় তাদের সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার পথেই আছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। প্রতিষ্ঠানটির রাশিয়া বিষয়ক সম্পাদক স্টিভ রোজেনবার্গ এ নিয়ে লিখেছেন, নির্বাচনে এই ফল এসেছে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পর। এই যুদ্ধে রুশ সেনাবাহিনীকে যুদ্ধক্ষেত্রে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক সংকট এবং ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তৈরি হয়েছে জ্বালানি সংকট। মনে করা হচ্ছে, ৫ শতাংশ ভোটের সীমা পেরিয়ে নতুন দুমা’য় যে দলগুলো প্রবেশ করতে যাচ্ছে, সেগুলো আগের পার্লামেন্টে থাকা দলগুলোই। আর সেই দুমা পুরোপুরি ক্রেমলিন এবং তথাকথিত ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’-এর পক্ষে।

এবার পার্লামেন্টে জায়গা করে নিতে না পারা একটি দল হলো ইয়াবলোকো। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুমতি পাওয়া একমাত্র যুদ্ধবিরোধী দল ইয়াবলোকো। কিন্তু নিবন্ধিত হওয়ার মাত্র ১২ দিন পরই সুপ্রিম কোর্টের রায়ে দলটিকে ব্যালট থেকে বাদ দেয়া হয়। এটিকে এমন একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয় যে, ইয়াবলোকোর শান্তির পক্ষে অবস্থান জনসাধারণের মধ্যে অতিরিক্ত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল ক্রেমলিনে। ফলে আদালতের রায়ে তারা বাদ পড়ে যায়।

স্টিফ রোজেনবার্গ লিখেছেন, নতুন দুমা আগেরটির মতোই অনুগত হতে যাচ্ছে- এতে দলটি অবাক নয়। ইয়াবলোকো পার্টির চেয়ারম্যান নিকোলাই রিবাকভ বলেন, ব্যালটে যদি ১০টি দল থাকে এবং তারা সবাই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নীতিকে সমর্থন করে, তাহলে আর কী ফল হতে পারে? আমি মনে করি না, দুমায় কোনো পরিবর্তন আসবে। তারা আগের মতোই পুতিনের নীতির পক্ষে ১০০ শতাংশ ভোট দেবে। ইয়াবলোকোকে দলীয় তালিকা থেকে বাদ দেয়া হলেও, তাদের প্রায় ১০০ প্রার্থী পৃথক নির্বাচনী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান। তবে দলটি নির্বাচনের পুরো সময়জুড়েই চাপের মুখে ছিল।
নিকোলাই রিবাকভ বলেন, আমাদের কিছু প্রার্থীর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল। কিন্তু তারা কারাগারে। অনেককে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেয়া হয়েছে। আর আমাদের কিছু নির্বাচন পর্যবেক্ষককে নিবন্ধনই দেয়া হয়নি। ফলে তারা ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করতে পারেননি।

তিন দিনব্যাপী এই নির্বাচনের শেষ দিন রোববার ভোট শুরু হওয়ার আগে ইউক্রেন মস্কো এলাকায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালায়। এতে শহরের একটি তেল শোধনাগার আক্রান্ত হয়। তেল শোধনাগারটির কাছে একটি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সঙ্গে ওই হামলা নিয়ে কথা বলেন সাংবাদিক রোজেনবার্গ। তিনি বলেন, সেখানে সেখানে ড্রোন হামলায় তেমন কোনো বিস্ময় দেখা যায়নি। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় পর মস্কোর বাসিন্দারা তাদের শহরকে মাঝেমধ্যেই যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পরিণত হতে দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। বিস্ময়ের বদলে তাদের মধ্যে ছিল নীরব মেনে নেওয়ার প্রবণতা।

ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসা ভিক্টর নামের এক ভোটার বলেন, ডনবাসের মানুষ, সেইসঙ্গে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে ব্রিয়ানস্ক ও বেলগোরোদের মানুষ প্রতিদিনই এ ধরনের ঘটনা দেখেন। তারা নিজেদের জীবন চালিয়ে যান।

এই নির্বাচনের ফল যদি অনুমানযোগ্য হয়ে থাকে, তাহলে এরপর কী ঘটবে- তা অনেকটাই অস্পষ্ট। সম্ভবত ক্রেমলিন এই ফলাফলকে এমনভাবে উপস্থাপন করবে যে, অধিকাংশ রুশ নাগরিক প্রেসিডেন্টের পেছনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ নীতি এবং যুদ্ধ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোর যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও এই ফলাফলকে ব্যবহার করা হতে পারে।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট পুতিন নতুন করে সেনা সমাবেশ বা মোবিলাইজেশন করার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তিনি বলেছেন, এমন কোনো পরিস্থিতি নেই, যার জন্য এটি প্রয়োজন হবে।