লোহাগাড়ায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ২২ কোটি টাকার ক্ষতি

ফন্ট সাইজ:

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতে ২১ কোটি ৬১ লাখ ৩৮ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে প্রাণিসম্পদ খাতে ১৩ কোটি ৬১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা এবং মৎস্য খাতে ৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ৩টি ছাগল ও ১টি ভেড়া মারা গেছে। এ ছাড়া উপজেলার ২ হাজার ৫০০টি পোল্ট্রি খামার এবং ১ হাজার ৫০০টি গবাদিপশুর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি বড় বাণিজ্যিক পোল্ট্রি খামারে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে খামারের চাষকৃত ঘাস ও সংরক্ষিত খড় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খামারিরা চরম সংকটে পড়েছেন। বন্যার পানিতে পশুখাদ্যের ঘাস, খড় ও পোল্ট্রি খামার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে খামারিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি উৎপাদনও ব্যাহত হবে।

খামারি তৈয়ব তাহের বলেন, ভারী বর্ষণে বন্যার পানি খামারে প্রবেশ করে বেশ ক্ষতি হয়েছে। লেয়ার মুরগি রোগাক্রান্ত হচ্ছে। এরকম টানা বৃষ্টি আর হয়নি। আমার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মৎস্যচাষি আবুল কালাম বলেন, হঠাৎ পানি চলে আসায় মাছের প্রজেক্ট এর পাড় ভেঙে বন্যার পানিতে ভেসে যায় লাখ টাকার মাছ। স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন হয়ে গেল মুহূর্তের মধ্যে। সরকার যদি মানবিক বিবেচনায় আর্থিক সহায়তা দেন ক্ষতি কিছুটা কমে আসবে।

অন্যদিকে উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্যমতে, বন্যায় উপজেলার প্রায় সাড়ে ৪৫০ মৎস্যচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে প্রায় ১২ লাখ মাছের পোনা। এ ছাড়া ১ হাজার ৬২০টি পুকুর এবং ২৬২ হেক্টর জলাশয় ও মাছ চাষের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মৎস্য খাতে প্রায় ৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিসের ফিল্ড সুপারভাইজার মাহমুদ মুসা বলেন, বন্যার পানিতে পুকুর ও জলাশয় থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ ও পোনা ভেসে যাওয়ায় অনেক মৎস্যচাষি সর্বস্বান্ত হয়েছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সেতু ভূষণ দাশ বলেন, বন্যায় প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন