চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল টোলপ্লাজার সামনে থেকে আত্মসাৎ হওয়া প্রায় ১২ টন ওজনের ২১ রোল সাইজিং লাইনার পেপার এবং একটি কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত মহিউদ্দিন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ইছানগর এলাকার মাসুদ পোর্ট কোম্পানিতে সরবরাহের জন্য রাজাপুরি ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে ঢাকা মেট্রোর একটি কাভার্ডভ্যানে ১২ হাজার ২৩৯ কেজি ওজনের ২১ রোল সাইজিং লাইনার পেপার পাঠানো হয়।
গত ৬ই জুলাই রাতে কাভার্ডভ্যানটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে ৯ই জুলাই দুপুরে কর্ণফুলী টানেলের টোলপ্লাজার সামনে পৌঁছানোর পর চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে মালামালসহ আত্মগোপনে চলে যায়। নির্ধারিত গন্তব্যে পণ্য না পৌঁছানোয় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজির পর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে কর্ণফুলী থানায় অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ১২ই জুলাই কর্ণফুলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযানের প্রথম ধাপে চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানার নিমতলা বিশ্বরোড এলাকা থেকে আত্মসাৎ হওয়া কাভার্ডভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। পরে গোপন সংবাদে ঢাকার মতিঝিল থানার দক্ষিণ কমলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাড়ির হেলপার নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়। নয়নের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কর্ণফুলীর মইজ্জারটেক এলাকা থেকে মহিউদ্দিন ও ইসমাইল ওরফে মুসলমানকে আটক করা হয়।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ বাংলাবাজার এলাকার একটি প্যাকেজিং কারখানায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে অভিযান চালিয়ে আত্মসাৎ হওয়া ১২ হাজার ২৩৯ কেজি ওজনের ২১ রোল সাইজিং লাইনার পেপার সম্পূর্ণ উদ্ধার করা হয়। এ সময় জানে আলম, কামাল হোসেন ও রফিক উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে আত্মসাৎ হওয়া সবগুলো ২১ রোল সাইজিং লাইনার পেপার এবং সংশ্লিষ্ট কাভার্ডভ্যানটি। কর্ণফুলী থানার ওসি মো. ইখতিয়ারউদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
