বন্যার বিপর্যস্ত হবিগঞ্জের জনপদ

ফন্ট সাইজ:

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে শায়েস্তাগঞ্জসহ হবিগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে নেমে এসেছে বিপর্যয়। এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেছে হাজারো কৃষক ও খামারির বছরের পরিশ্রম এবং জীবিকার প্রধান অবলম্বন। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই তিন খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ইতোমধ্যে ৭৫ কোটি টাকারও বেশি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষী ও স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ শত কোটি টাকারও বেশি।

কারণ এখনো অনেক এলাকা পানির নিচে থাকায় সঠিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করা সম্ভব হয়নি। পানি সম্পূর্ণ নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও। হবিগঞ্জ কৃষি বিভাগের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় প্রায় ৬৯৭ হেক্টর আউশ ধান, ১৩১ হেক্টর শাকসবজির আবাদ এবং ২০ হেক্টর ফলের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষি খাতেই ২০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পানি নেমে গেলে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। হবিগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরীফুল আলম জানান, জেলার চারটি উপজেলায় ১ হাজার ৪৫৩টি মাছের পুকুর ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এতে প্রায় ৬১৩ টন চাষকৃত মাছ ভেসে গেছে। এছাড়াও প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি মাছের পোনা বন্যার পানিতে হারিয়ে গেছে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম বলেন, বন্যায় আউশ ধান, শাকসবজি, ফলের বাগানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে এখনও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে কৃষি খাতে অন্তত ২০ কোটি টাকার ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাণিসম্পদ খাতও রক্ষা পায়নি এই ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে। অসংখ্য হাঁস-মুরগি, গবাদিপশুর খাদ্য এবং পোল্ট্রি খামার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খামারিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। হবিগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, বন্যার পানিতে অনেক হাঁস-মুরগি, পোল্ট্রি খামার ও প্রাণিসম্পদের ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন