বাইগুনি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়ম

শ্রমিকের তালিকায় সভাপতির ভাই-ভাতিজা

ফন্ট সাইজ:

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার তালোড়া-বাইগুনি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের সঙ্গে এবার শ্রমিক তালিকায় স্বজনপ্রীতির বিষয়টি সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৫২ লাখ টাকার ইজিপিপি’র (অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি) এ প্রকল্পে কাগজে-কলমে ১২৫ জন শ্রমিক দেখানো হলেও মাঠে ৬০ থেকে ৬৫ জনের বেশি কাজ করেননি। অথচ শ্রমিক তালিকায় প্রকল্প সভাপতি আমজাদ হোসেনের আপন ছোট ভাই, চাচাতো ভাই, ভাতিজা, মামাসহ একাধিক নিকট আত্মীয় এবং সচ্ছল পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

একই সঙ্গে অধিকাংশ খননকাজ ভেকু (এসকেভেটর) মেশিনে করিয়ে শ্রমিকদের নামে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে।
জানা গেছে, উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া-বাইগুনি এলাকায় ২ হাজার ১০০ মিটার খাল পুনঃখননের জন্য প্রকল্পটি নেয়া হয়। চলতি বছরের মে মাসে কাজ শুরু হয়ে ৩০শে জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় বরাদ্দের ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে। দাখিলকৃত শ্রমিক তালিকায় দেখা যায়, একাধিক ব্যক্তি পেশাদার দিনমজুর নন। তালিকার ৩৯ ও ৫৫ নম্বরে থাকা আলমগীর ও হোসেন আমিনুল ইসলাম প্রকল্প সভাপতির আপন ছোট ভাই, ২৪ নম্বর জিয়াউর রহমান ও ৩৪ নম্বর সুজাউল ইসলাম চাচাতো ভাই, ৬৮ নম্বর সানাউল হক মণ্ডল মামা এবং ৯৫ নম্বর এসআই পাশা তার ভাতিজা। এছাড়া ৪২ নম্বর এমএ ফারুক হোসেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার শ্যালক বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রমিক তালিকার ৬১ নম্বর রুবেল হোসেনের ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে প্রকল্প সভাপতির ছোট ভাই আরিফুল ইসলামের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। একইভাবে ৬০ নম্বর হাফেজ আকন্দের চেকে আরিফুল ইসলাম স্বাক্ষর করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন। ওই হিসাবের সঙ্গে সভাপতির মেয়ে আমিনা খাতুন তিশার মোবাইল নম্বর যুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, এখন প্রকল্পের কাজ করবো না তো কি চুরি করে খাবো? শ্রমিকের তালিকায় আমার ভাই, ভাতিজা ও স্বজনদের নাম আছে তো কী হয়েছে? কী লেখার আছে লিখেন!

১২৫ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেছেন এমন কোনো প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলাম তা দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তালিকায় প্রকল্প সভাপতির কয়েকজন নিকট আত্মীয় এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার আত্মীয়ের নাম থাকার বিষয়টি নজরে এসেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় বরাদ্দকৃত ৫২ লাখ টাকার মধ্যে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, তালিকায় অনিয়ম হওয়ার কথা নয়। কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় বিলের একটি অংশ পরিশোধ করা হয়নি। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন