ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পণ্য বিক্রির জন্য ১২টি ডিলারশিপ অনুমোদন দিয়েছেন। এর মধ্যে আটটি ডিলারশিপের নিয়ন্ত্রণ একজনের হাতে, অথচ তিনি ডিলারও না। নাম সাইদুল ইসলাম। অন্যজনের লাইসেন্স ব্যবহার করে তিনি নিজেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। যার মধ্যে মৃত ব্যক্তির নামেও লাইসেন্স রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার ভালুকজান ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল আজিজের তিন ছেলের মধ্যে মেজো সাইদুল ইসলাম। বড় ভাই নুরুল ইসলাম এক সময় হাট-বাজারে আটা বিক্রি করে সংসার চালাতেন। পরবর্তীতে দোকান নিয়ে তেল বিক্রি শুরু করেন। সঙ্গে ছোট ভাই সাইদুল থাকতেন। সেখান থেকে তাদের পরিবারের উত্থান শুরু। তেল-আটা বিক্রির সময় ওজনে কম দিতেন সাইদুল। এ নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা লেগেই থাকতো। এভাবে শুরু হয় সাইদুলের অপরাধ জগতের উত্থান। হয়ে ওঠেন বেপরোয়া। বাগিয়ে নেন টিসিবি’র লাইসেন্স। করোনাকালীন র্যাবের অভিযানে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আজিজ ওয়েলমিল থেকে টিসিবি’র লোগো লাগানো প্রায় অর্ধ কোটি টাকার সয়াবিন তেল, চিনি, ডাল উদ্ধার করা হয়েছিল। এ সময় সাইদুলকে আটক করে র্যাব। এরপর থেকে স্থানীয়রা তাকে তেল চোর সাইদুল বলে। সুচতুর সাইদুল অল্প কয়েকদিন জেল খাটার পর বেরিয়ে পড়েন। এরপর নিজের লাইসেন্স চলে যায়। কিন্তু বিভিন্ন অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছিল তার সখ্যতা। তাদের সহযোগিতায় অন্যের লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন সাইদুল। যা ঠেকেছে আটটিতে। এখন ব্যবসা করছেন দেদারছে।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই টিসিবি’র পণ্য বিতরণ করেন। তার ভয়ে উপকারভোগীদের খালি হাতে বাড়ি যেতে হয়। রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এমদাদুল, মোফাজ্জাল, আব্দুল মজিদ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সুরুজ মিয়াসহ আরও অনেকেই সাইদুলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। উপকারভোগী এমদাদুল বলেন, যেদিন টিসিবি’র মাল (পণ্য) দেবে আমি জানি না। পরবর্তীতে জানতে পেরে বাবুগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখি চলে গেছে। যোগাযোগ করা হলে জানায়, আর মাল দেয়া হবে না। প্রতিবার এমন হয়। কোনো ঘোষণা ছাড়াই পণ্য বিতরণ করা হয়। সাইদুলের কাছের লোকজন কিনলেই চলে যায়। আমি খেটে খাওয়া মানুষ। আমি ছাড়াও আরও অনেকেই টিসিবি’র মাল পাইনি। এ বিষয়ে মেসার্স ওয়ালিদ ট্রেডার্স নামে টিসিবি’র ডিলার আব্দুল আলিম বলেন, আমি অসুস্থ থাকায় কয়েক মাস পণ্য বিতরণ সাইদুলকে দিয়ে করিয়েছি।
এ ব্যাপারে সাইদুল ইসলাম বলেন, আমি কয়েকটা লাইসেন্সের পণ্য বিতরণ করি। এতে কোনো সমস্যা নাই। সবাই মিলেমিশে দেই। তিনি বলেন, করোনাকালীন টিসিবি’র মালসহ আটক হই। কিন্তু ওই মামলা এখন আর নেই। না জানিয়ে বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আপনার সঙ্গে একটু চা খাবো সময় দিয়েন। এ বিষয়ে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ, ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কামাল হোসেন বলেন, অন্যজন পণ্য বিতরণ করতে পারবেন। কিন্তু তার সঙ্গে মূল লাইসেন্সধারীর লোকজন থাকতে হবে। তবে করোনাকালীন সাইদুলের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টা আমার জানা নেই। ভুক্তভোগী কেন পণ্য পেলো না এটা ঠিক করেনি। আমি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, টিসিবি’র পণ্য বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আপনি যা বললেন, তা জানা ছিল না। বিষয়টি আমি দেখছি।
