চট্টগ্রামে ইন্টারনেট অফিসে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। বুধবার বিকালে সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন্‌স) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিএমপি’র তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ই জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে ডিডিএন’র স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়া হয়। এর দুইদিন পর, ১৩ই জুলাই চকবাজার থানার মনুমিয়াজী লেনের মরিয়ম হাইট্‌স ভবনের তৃতীয়তলায় অবস্থিত ডিডিএন’র কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালায়।

তারা অফিসে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজাসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের ব্যাগ নিয়ে যায় হামলাকারীরা। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল। ঘটনার পর চকবাজার থানায় দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে সিএমপি’র একাধিক টিম এবং র‌্যাব-৭ যৌথভাবে মঙ্গলবার রাতভর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. ইউনুস (৪১), ইমরান হোসেন চ্যাং (৩১), আকবর হোসেন (২৪), মো. সুমন (২৭), মো. মনির ওরফে কেহেরমান (৩৮), মো. গিয়াস উদ্দিন (২১), মো. নয়ন (২০) এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ (২৮)। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই, ডাকাতি, চোরাচালান, মানব পাচার ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন