ঝিনাইদহে সালিশের নামে চাঁদাবাজির নাটক সাজিয়ে যুবদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। সালিশে রাজি না হওয়ায় ও ভিকটিমের পরিবারের পক্ষে কথা বলার কারণে যুবদল নেতাকে কৌশলে ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি করেছেন সনাতনী সম্প্রদায়ের তালাকপ্রাপ্ত প্রেমা রানী সাহা ও তার পরিবারের কয়েকজন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী সনাতনী সম্প্রদায়ের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রেমা রানী সাহা।
ভুক্তভোগী প্রেমা রানী তার বক্তব্যে জানান, ফরিদপুর সদর উপজেলার বোয়ালমারী এলাকার প্রণয় সাহার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিবাহের পরে সে জানতে পারে তার স্বামী নেশাখোর ও অনলাইনে জুয়া খেলে, যে কারণে প্রায়ই তাকে শারীরিক নির্যাতন করতো এবং তার গহনা জোর করে কেড়ে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছেÑ এসব বিভিন্ন সমস্যায় বনিবনা না হওয়ায় ওই নারী তার স্বামীকে তালাক দেন। এ নিয়ে স্বামীর পরিবারের লোকজন এক এক সময় বিভিন্ন মোবাইল নম্বর দিয়ে ফোনে ওই নারীসহ তার বাবা-মা’কে হত্যার হুমকি দেয়। এতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ওই নারী ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিবেশী যুবদল নেতা আতিয়ার রহমানের শরণাপন্ন হন। আতিয়ার রহমান ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। পরে যুবদল নেতা আতিয়ার রহমান ওই নারীর তালাকপ্রাপ্ত স্বামী ও স্বজনদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ফরিদপুরের প্রণয় সাহা তার সাবেক স্ত্রীর প্রতিবেশী ও যুবদল নেতা আতিয়ারকে টাকার বিনিময়ে পারিবারিক সমস্যা সমাধান করার অনুরোধ জানায়। ওই সময় যুবদল নেতা আতিয়ার ও ভুক্তভোগী নারী প্রেমা সাহা ও তার স্বজনরা মোবাইল ফোনের পাশে বসে একইসঙ্গে উভয়ের কথোপকথন শোনেন। একপর্যায়ে আতিয়ার রহমান চাঁদা বা অনৈতিকভাবে অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে পারিবারিক সমস্যা মিটিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নারীর তালাকপ্রাপ্ত স্বামী কথোপকথনের একটি রেকর্ড কাটছাঁট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং কয়েকটি পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে ছড়িয়ে দেয়। বিষয়টি নজরে এলে সম্প্রতি ঝিনাইদহ জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত আদেশে যুবদল নেতা আতিয়ার রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আভিযোগ করে প্রেমা রানী সাহা বলেন, আতিয়ার রহমান ভাই আমাদের প্রতিবেশী। তিনি গ্রামের সকল সনাতনীদের দেখাশোনা করেন। আজকে আমাদের পারিবারিক কারণে মিথ্যা চাঁদাবাজির নাটক সাজিয়ে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার চাইÑ একইসঙ্গে আমার সাবেক স্বামী প্রণয় সাহার বিচার চাই।
