সুনামগঞ্জের ছাতকে গৃহবধূ রংফুল বেগমের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। স্ত্রীর মৃত্যুকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দাবি করে আদালতে মামলা করেছেন স্বামী আব্দুল গফুর। অন্যদিকে, প্রবাসে থাকা বড় ছেলে আব্দুল হান্নান একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে বাবার বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছেন। পিতা-পুত্রের এমন পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের স্বামী ও দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের চাটুরপাড় গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুর স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় বড় ছেলের স্ত্রী (পুত্রবধূ) মারজানা আক্তার, এলাকার বাসিন্দা খলিল মিয়া, তার স্ত্রী সুজিয়া বেগম এবং জাবেদ মিয়ার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের আমলগ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল গফুর তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, স্ত্রীর মৃত্যু শুরু থেকেই সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করছেন। অথচ তার প্রবাসী ছেলে আব্দুল হান্নান সম্প্রতি ছাতকে একটি পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে উল্টো বাবার বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তুলেছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি উল্লেখ করে আব্দুল গফুর কোনো প্রকার প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বের করে আনার জন্য প্রশাসন ও তদন্তকারী সংস্থার প্রতি জোর আহ্বান জানান। একই পরিবারের দুই পক্ষ থেকে আসা এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও মামলার পর ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমেই কেবল মৃত্যুর আসল রহস্য উন্মোচিত হওয়া সম্ভব। উল্লেখ্য, নিহত রংফুল বেগম দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের চাটুরপাড় (বালিউড়া) গ্রামের আব্দুল গফুরের স্ত্রী। জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য গত প্রায় তিন বছর ধরে তারা ছাতক পৌর শহরের রহমতবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন, যেখানে তাদের বড় ছেলে আব্দুল হান্নানের স্ত্রী মারজানা আক্তার রুজিও সঙ্গে থাকতেন। গত ২০শে মার্চ ওই ভাড়া বাসা থেকেই রংফুল বেগমের রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
