ক্রোয়েশিয়ার মডেল ও সমর্থক ইভানা নল। তিনি অনেকের কাছে ‘বিশ্বকাপের সবচেয়ে আবেদনময়ী সমর্থক’ হিসেবে পরিচিত। পর্তুগালের বিপক্ষে বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, ওই সিদ্ধান্তের কারণেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ক্রোয়েশিয়াকে। বৃহস্পতিবার রাতে পর্তুগাল ২-১ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় আসে শেষ মুহূর্তের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। অতিরিক্ত সময়ের ১০৩তম মিনিটে কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে ক্রোয়েশিয়ার হয়ে সমতা ফেরান ইয়োশকো গভারদিওল।
কিন্তু ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করা হয়। সিদ্ধান্তে বলা হয়, আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় ক্রোয়েশিয়ার ফরোয়ার্ড ইগর মাতানোভিচ বলে মাথা ছুঁইয়ে অফসাইডে থাকা এক সতীর্থের দিকে পাঠিয়েছিলেন। টেলিভিশন রিপ্লেতে স্পষ্টভাবে বোঝা কঠিন ছিল মাতানোভিচ আদৌ বল স্পর্শ করেছিলেন কি না। তবে ম্যাচে ব্যবহৃত বলের ভেতরে থাকা বিশেষ মাইক্রোচিপের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বলে স্পর্শ করেছিলেন। পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি সম্ভবত তার চুল স্পর্শ করেছিল। তবে এতে বলের গতিপথ বা দিক পরিবর্তন হয়েছে বলে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে অনেক ক্রোয়েশিয়ান সমর্থক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানান। স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকা ইভানা নলও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, নরওয়ের রেফারি, আপনি ভয়াবহ বাজে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে কয়েকজন সমর্থক ফিফার সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তির নিয়মও সামনে এনেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, চুলকে শরীরের অংশ হিসেবে তখনই বিবেচনা করা হবে, যখন তা বলের গতি বা গতিপথে প্রভাব ফেলবে। ফিফার নিয়মে বলা হয়েছে, চুলকে শরীরের অংশ হিসেবে ধরা হবে কেবল তখনই, যখন তা বলের নড়াচড়া বা গতিপথে প্রভাব ফেলে। সাধারণত এটি তখনই সম্ভব, যখন ঘন চুলের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংস্পর্শ ঘটে, যেমন টপ-নট ধরনের চুলের ক্ষেত্রে। ক্রোয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম গোল এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছে, ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায় যে মাতানোভিচের সম্ভাব্য স্পর্শের পরও বলের গতিপথ এক মিলিমিটারও পরিবর্তিত হয়নি। তাই ফিফার নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী এটিকে সক্রিয়ভাবে বল খেলা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত ছিল না।
ম্যাচ শেষে মাতানোভিচও স্বীকার করেন, বলটি ক্রস থেকে আসার সময় তার চুলে সামান্য স্পর্শ লেগেছিল বলে তার মনে হয়েছে। তিনি বলেন, সত্যি বলতে, আমার মনে হয়েছে বলটা সামান্য চুলে লেগেছিল। পরে আমি রেফারিকে জিজ্ঞেস করি কী হয়েছে। কারণ আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে আমি বল স্পর্শ করেছি কি না।
