খামেনির জানাজায় অংশ নেবেন স্পিকার

খামেনির জানাজায় অংশ নেবেন স্পিকার

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠান ও জানাজায় অংশ নেবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে তাৎপর্যপূর্ণ এই বিদায়ী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগামীকাল ২রা জুলাই ঢাকা ছাড়বেন তিনি। স্পিকারের পাশাপাশি বিরোধী দলের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদলও খামেনির জানাজায় অংশ নেবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিএনপি ও জামায়াত মিডিয়া সেল সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ খামেনির জানাজায় অংশ নেবেন। আগামীকাল ২রা জুলাই তেহরানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন তিনি। শায়রুল কবির বলেন, ৪ঠা থেকে ৯ই জুলাই তেহরান, কোম ও মাশহাদে জানাজা, রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান এবং দাফন-সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া জাতীয় সংসদের কয়েকজন সদস্যও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইরানে গিয়ে জানাজায় অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল আগামী ৩রা জুলাই ইরান সফরে যাচ্ছে। দলটির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রতিনিধি ও জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন মো. নুরুল আমীন, ড. মো. কেরামত আলী এবং ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। প্রতিনিধিদলটি ৩রা জুলাই ঢাকা ত্যাগ করবে এবং ৯ই জুলাই পর্যন্ত ইরানে অবস্থান করবে। জামায়াত জানায়, প্রতিনিধিদলটি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিদায়, ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর শোক, সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করতেই খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেবে তারা। সফরকালে প্রতিনিধিদলটি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

গত ২৭শে ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একটি দাপ্তরিক কমপ্লেক্সে আকস্মিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ওইদিনই দেশ দু’টির আগ্রাসী বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। হামলায় দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও নিহত হন। খামেনির মৃত্যুর পর থেকেই ইরানে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। প্রায় চার মাস পর আগামী ৪ঠা থেকে ৯ই জুলাই তার রাষ্ট্রীয় জানাজা, শোকানুষ্ঠান ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইরানের ঘোষণা অনুযায়ী, তেহরান ও কোমে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় কর্মসূচি শেষে ৯ই জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে তেহরান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন