পেনাল্টি শুট-আউটেই ফয়সালা হলো এবারের বিশ্বকাপের একদিনের দু’টি লড়াই। চারবারের বিশ্বকাপজয়ী জার্মানি হেরে গেল প্যারাগুয়ের কাছে। এটাকে অনেকেই অঘটন বলছেন। দুর্ভাগ্যও বলা চলে। জার্মানি আউট। প্যারাগুয়ে থেকে গেল বীরদর্পে। যদিও জার্মানির গোল বাতিল নিয়ে বিশ্বকাপের আসরে কৌতুকপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে। ভিএআর গোল বাতিল না করলে হয়তো ইতিহাস অন্যভাবেই লেখা হতো। যা নিয়ে বিতর্ক ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। জার্মানির এই আবেগপূর্ণ বিদায় দেখতে হতো না ফুটবল ভক্তদের। ওদিকে মরক্কো ট্যাকটিক্যাল ফুটবল খেলে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসকে পেনাল্টি শুট-আউটে পরাজিত করে জায়গা করে নিয়েছে শেষ ষোলোয়। টানটান উত্তেজনার মধ্যে খেলাটি শেষ হয়।
বলা চলে, মরক্কো প্রায় হেরেই গিয়েছিল। শেষ মুহূর্তের গোলে আবার খেলায় ফিরে আসে। এক অসাধারণ গোল করে গাকপো নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। যে গোলটা বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। লিভারপুলের স্ট্রাইকার গাকপোর গোল খেলার গতিপথ বদলে দিয়েছিল। শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে মরক্কোর ইসা দিওপ গোল করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন। এরপর আবার নতুন করে লড়াই শুরু হয়। যার পরিণতিতে পেনাল্টি শুট-আউট এবং সেখানেই ফুটবলের এই নিষ্ঠুর প্রক্রিয়ার ইতি ঘটে। পেনাল্টি শুট-আউট অনেকটাই ভাগ্যের ব্যাপার। সুপারস্টাররাও পেনাল্টি মিস করেন। মরক্কোর অধিনায়ক হাকিমিও একই পথে পা বাড়ান। গোল করতে ব্যর্থ হন।
দিনের অন্য খেলায় এশিয়ার অন্যতম ফুটবল-শক্তি জাপান হেরে যায় ব্রাজিলের সঙ্গে। লড়াইটা জমে উঠেছিল। প্রথমে জাপান গোল করে তাক লাগিয়ে দেয় সবাইকে। ব্যাপক চাপে পড়ে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কিন্তু ব্রাজিল ধীরে ধীরে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। কোচ আনচেলোত্তির দুই পরিবর্তনে দ্বিতীয়ার্ধে খেলার কৌশল বদলে যায়। ৫৫ মিনিটের মাথায় ক্যাসেমিরো জাপানকে রুখে দেয়। এরপর খেলার ভাগ্য অন্যদিকে মোড় নেয়। ধারণা করা হচ্ছিল, হয়তো বা পেনাল্টি শুট-আউটে যাবে খেলাটি। কিন্তু বিস্ময়ের আরও যে বাকি! জ্বলে উঠেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। শেষ মিনিটে তার গোলে জাপানের স্বপ্ন ভেঙে খান খান হয়ে যায়।
