মাদ্রাসা শিক্ষাকে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক, গবেষণানির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে শুধু প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এমনভাবে এই খাতকে গড়ে তুলতে হবে, যাতে এখানকার শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও কার্যকর, গবেষণানির্ভর ও পরিকল্পিত ভূমিকা নিতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল স্তরের ‘শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ও অনন্য শিক্ষার্থীদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে মাদ্রাসা শিক্ষার কাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ছিল। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফাজিল-কামিল শিক্ষাকে মূলধারার উচ্চ শিক্ষার সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
ড. মিলন বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এখন আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। ইসলামী শিক্ষা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক, আধুনিকায়িত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বাস্তবমুখী কারিকুলাম। মাদ্রাসা খাতে শিক্ষক সংকটের বিষয় তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে ইসলামী শিক্ষায় দক্ষ শিক্ষক পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কারিকুলাম উন্নয়ন ও শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
পরে শিক্ষামন্ত্রী কৃতী শিক্ষার্থী এবং নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষগণের হাতে অ্যাওয়ার্ড ও সনদ তুলে দেন। এ ছাড়া সরকার কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সবুজায়ন করার লক্ষ্যে ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাদ্রাসার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন এবং মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরসহ উপস্থিত অন্য অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে ‘ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্তা’র মোড়ক উন্মোচন করেন শিক্ষামন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান বলেন, ফাজিল ও কামিল শিক্ষার স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব ডিগ্রিধারীরা কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা ও মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারি নিয়োগ ও উচ্চ শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে ফাজিল-কামিল শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সুস্পষ্ট স্বীকৃতি ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন ও মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করেই দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)’র মহাপরিচালক, প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল প্রমুখ। আরও উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. হাছানাত আলী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিদ্দিকী, ট্রেজারার শাহীনুল ইসলাম, কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন, প্রফেসর ড. মো. ইদ্রিস আলী প্রমুখ।
