নেত্রকোণায় বস্তা সংকটে ব্যাহত সরকারি ধান সংগ্রহ

ফন্ট সাইজ:

নেত্রকোণায় হাওরের আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দিতে গত ৩রা মে সরকারিভাবে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকেই সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করছে খাদ্য বিভাগ। তবে নেত্রকোণার সবক’টি খাদ্যগুদামে বস্তার সংকট দেখা দেয়ায় কয়েকদিন ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে ধান সংগ্রহ। ধানভর্তি ট্রলি নিয়ে সরকারি গুদামের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বস্তা না থাকায় মিলছে না ধান বিক্রির সুযোগ। ফলে সরকার নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি করতে না পেরে লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। যদিও দ্রুত সংকট সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছে খাদ্য বিভাগ। জেলা খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এ বছর ২০ হাজার ৪১৫ টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি ধানের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৬ টাকা। তবে ২৮শে জুন পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৬০০ টন। ধান সংগ্রহের কাজ চলার কথা ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত। সরজমিন জেলার বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ, আটপাড়া, মদন ও নেত্রকোণা সদরসহ বেশ কয়েকটি খাদ্যগুদামে ঘুরে দেখা যায়, কোনো কোনো গুদামের সামনে ধানভর্তি ট্রলি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ফিরে যেতে হচ্ছে অনেক কৃষককে। আবার ধান সংগ্রহ বন্ধ থাকায় কোনো কোনো গুদাম এলাকা খালি পরে আছে। অনেক কৃষক হাল ছেড়ে দিয়ে কম দামেই পাইকারদের কাছে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। বারহাট্টার কৃষক নজরুল ইসলাম আক্ষেপ করে জানান, যে আশায় ধান রেখেছিলাম সেটা পূরণ হয়নি। তিনি আরও জানান, ধান নিয়ে গিয়েছিলাম গুদামে। তারা বস্তা নেই বলে ধান ঘুরিয়ে দিয়েছে। এখন কবে দিতে পারবো সেটাও নিশ্চিত না। এদিকে, সরকারি গুদামে ধান বিক্রি বন্ধ থাকায় কাজ কমে গেছে ধান বহন ও গুদামে ওঠানো-নামানোর সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদেরও। কৃষকদের মতো তারাও পড়েছেন আয়-রোজগারের সংকটে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে ময়মনসিংহের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মানবজমিনকে জানান, প্রয়োজনীয় বস্তা সরবরাহের জন্য ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন