ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে’র পরা একটি বিশ্বকাপের জার্সি নির্ধারিত দামের চেয়ে নিলামে ৭০ গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। একই নিলামে ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটও ৪ হাজার ২০০ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে। নিলাম পরিচালনাকারীরা বিক্রয়মূল্য দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের ধারণা, চলমান বিশ্বকাপের সাফল্য ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে বৃটিশ একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকা।
পেলের জার্সিটি তিনি ১৯৭০ অথবা ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের কোনো একটিতে পরেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জার্সিটির মূল্য ধরা হয়েছিল ৬০০ থেকে ৮০০ পাউন্ড। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি ৪২ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়। নিলাম প্রতিষ্ঠান বাডস-এর ক্রীড়া স্মারক বিভাগের প্রধান ডেভিড কনভেরি বলেন, পেলের বিশ্বকাপের জার্সি অনুমিত মূল্যের ৭০ গুণ দামে বিক্রি হওয়া ছিল সত্যিই একটি বিশেষ মুহূর্ত। তিনি বলেন, এটি প্রমাণ করে ফুটবল খেলায় পেলের প্রভাব কতটা গভীর ছিল এবং আজও সেই প্রভাব সমর্থকদের হৃদয়ে অটুট। পেলে’র ইতিহাসের একটি অংশ নিজেদের কাছে রাখতে মানুষ বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতেও প্রস্তুত।
১৯৩০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক টুকরো কাগজের জন্য ৪ হাজার ২০০ পাউন্ড অনেক অর্থ। কিন্তু এই টিকিট ফুটবলের সবচেয়ে বড় ইতিহাসের সূচনার স্মারক। ভাবুন তো, প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালে উপস্থিত থাকার অনুভূতি কেমন ছিল! তিনি আরও বলেন, সৌভাগ্যক্রমে টিকিটটির মূল মালিক এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝেছিলেন এবং এটি যত্ন করে সংরক্ষণ করেছিলেন। প্রায় এক শতাব্দী পরে এটি হাজার হাজার পাউন্ডে বিক্রি হবে, তিনি হয়তো তা কল্পনাও করেননি। কনভেরি বলেন, বিশ্বকাপ এমন কয়েকটি ক্রীড়া আসরের একটি, যা পুরো একটি জাতিকে সব কাজ থামিয়ে খেলা দেখতে বাধ্য করতে পারে। ফাইনাল বাঁশি বাজার পরও সেই আবেগ হারিয়ে যায় না। তিনি আরও বলেন, প্রতি চার বছর পর নতুন প্রজন্ম বিশ্বকাপের প্রেমে পড়ে, আর পুরোনো সমর্থকরা তাদের সেরা ফুটবল স্মৃতিগুলো আবারও জীবন্ত করে তোলেন। নিলামে আমরা ঠিক সেটাই দেখেছি।
ডেভিড বেকহামের জার্সিও বিক্রি
ডেভিড বেকহাম ইংল্যান্ডের অধিনায়ক থাকাকালে যে ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন, সেই ম্যাচে তার পরা দুটি জার্সিও নিলামে ২৬ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে। বেকহাম ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে গিয়ে দু’বার লাল কার্ড দেখা ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার। ২০০৫ সালে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তিনি লাল কার্ড দেখেন। এর আগে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার দিয়েগো সিমিওনে’কে লাথি মারার ঘটনায় বিতর্কিতভাবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। এবার ২০০৫ সালের সেই ম্যাচের প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধে পরা দুটি জার্সিই বিক্রি হয়েছে। ডেভিড কনভেরি বলেন, ফুটবল স্মারকের বাজারে ডেভিড বেকহাম এখনো সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন নামগুলোর একটি। এই জার্সিগুলো তার ইংল্যান্ড ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মারক, যদিও সেই স্মৃতি তিনি হয়তো ভুলে যেতে চাইবেন।
তিনি আরও বলেন, একই আন্তর্জাতিক ম্যাচে পরা দুটি জার্সি একসঙ্গে পাওয়া অত্যন্ত বিরল। বিশেষ করে যে ম্যাচটি ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসের এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনার জন্য স্মরণীয়। তার ভাষায়, জার্সিগুলোতে ম্যাচে ব্যবহারের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে, এমনকি সত্যিকারের ব্যবহারের গন্ধও যেন এখনো টের পাওয়া যায়। সংগ্রাহকরা ঠিক এ ধরনের স্মারকই খুঁজে থাকেন।
২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ২০০৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখেন বেকহাম। এর মাধ্যমে তিনি ইংল্যান্ডের ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে লাল কার্ড দেখার রেকর্ড গড়েন। সেই সময় বেকহাম এবং ইংল্যান্ডের তৎকালীন কোচ সভেন-গোরান এরিকসন দু’জনেই রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা এটিকে ‘অত্যন্ত কঠোর’ সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন। এমনকি অস্ট্রিয়ার কোচও স্বীকার করেন, লাল কার্ডের সিদ্ধান্তটি সঠিক বলে তার মনে হয়নি।
