লোডশেডিংয়ে দিশাহারা লালপুরবাসী

ফন্ট সাইজ:

নাটোরের লালপুরে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং। দিনের পাশাপাশি রাতের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগান্তিতে জনজীবন। এ ছাড়া পড়েছেন চলতি বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর আবার এক ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। এতে রাতে ঠিকমতো ঘুমানো সম্ভব হচ্ছে না। জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহ ধরে লালপুরে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। বাতাসের আর্দ্রতা ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ থাকায় তীব্র ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন মানবজমিনকে জানান, এ ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। উধনপাড়া গ্রামের দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী যুথি খাতুন ও সাথী খাতুন বলেন, রাত মানেই অন্ধকার। সংযোগ আছে, বিদ্যুৎ নেই। গরম ও লোডশেডিংয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছি না। বাহাদুরপুর গ্রামের এমদাদুল হক বলেন, দিনে রাতে ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টার লোডশেডিং। ছেলেমেয়েরা ঘুমাতে পারে না। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চার্জ দিতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মনজুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও হৃদরোগের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। লোডশেডিংয়ে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, লালপুর জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম মানবজমিনকে জানান, বর্তমানে উপজেলায় সংযোগকৃত গ্রাহকের সংখ্যা ১ লাখের বেশি। কিন্তু দৈনিক প্রায় ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে অর্ধেকেরও কম সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ৯টি ফিডারে পর্যায়ক্রমে এক ঘণ্টা লোডশেডিং ও এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে। তবে অনেক সময় তা মানা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, এটি বর্তমানে একটি জাতীয় সমস্যা। আশা করি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে। প্রসঙ্গত, লোডশেডিং সহনীয় করতে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুলের সুপারিশে ২৪শে এপ্রিল ২০২৬ থেকে অতিরিক্ত ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যা লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন