সমাজবিরোধী কার্যকলাপ দমনে বিল আনলো পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার

ফন্ট সাইজ:

সমাজবিরোধী কার্যকলাপ দমনের একটি বিল সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পেশ করা হয়েছে। এই বিলে বিনা বিচারে ১২ মাস পর্যন্ত আটক রাখার বিধান রাখা হয়েছে।‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০২৬’ পেশ করার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, প্রস্তাবিত এই আইনটির লক্ষ্য দাঙ্গা এবং অন্যান্য ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করা।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই বিলটি এই বিলটি সমাজবিরোধী কার্যকলাপ দমনের উদ্দেশ্যেই আনা হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসহ কোনোভাবেই এর অপব্যবহার করা হবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন।

বিলটি আনার পেছনের যুক্তি ব্যাখ্যা করে অধিকারী বলেন, বিদ্যমান আইনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহিংসতায় জড়িতদের কাছ থেকে সম্পত্তি ধ্বংসের খরচ আদায়ের কোনো বিধান নেই।
প্রস্তাবিত আইনটিতে বলা হয়েছে যে, যদি কোনো জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ কমিশনার বা ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা আশঙ্কা করেন যে, কোনো ‘গুণ্ডা’ সমাজবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হতে পারে, তাহলে তারা ওই ধরনের ব্যক্তিদের একটি নির্দিষ্ট ‘এলাকা, জেলা বা জেলাসমূহে’ প্রবেশে ১২ মাস পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবেন।

হুমায়ুন কবীরকে হুঁশিয়ারি: সোমবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের মতো লোককে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার সময় এসেছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। । সম্প্রতি রেজিনগর এবং শক্তিপুরের কর্মসূচিতে হুমায়ুন কবীর অশ্লীল শব্দযুক্ত ভাষণ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক উসকানিও দিযেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোন কোন ধারায় এফআইআর রুজুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা-ও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হুমায়ুন যে ভাষায় বক্তৃতা করেছেন, তা করার ক্ষমতা তাকে কেউ দেয়নি।

তার কথায়, ‘‘আপনাদের নিশ্চিত করছি, এত বড় ক্ষমতা (ওকে) কেউ দেয়নি।’’ কেন নওদার বিধায়ক এ সব বলছেন, তার কারণ ব্যাখ্যাও করেন শুভেন্দু। তার কথায়, ‘‘কেন করছেন জানি, রাজনৈতিক কারণ জানি, দু’টি এজেন্ডা ছিল।’’ এর পরেই আরও বিশদে শুভেন্দু জানান, হুমায়ুনের প্রথম উদ্দেশ্য ছিল, ভরতপুর, রেজিনগর, নওদায় সব নির্বাচিত পঞ্চায়েত, তা সে যে দলেরই হোক, নিজের দলে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু তিনি তা করতে পারছেন না। হুমায়ুনের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘‘বিধানসভা ভোটে দু’টি আসনে জিতেছেন। নিয়ম মেনে রেজিনগর আসন ছেড়ে দিয়েছেন। আগামী ২-৩ মাসে সেখানে ভোট হবে। ওই আসনে আপনি আপনার ছেলেকে জেতাতে চাইছেন।’’ শুভেন্দুর কথায়, ‘‘ওই আসনে ৭২ শতাংশ মুসলিম রয়েছেন।

মুসলিম ভোট কনসোলিডেট (ঐক্যবদ্ধ) করার জন্য আপনি এই খেলা খেলছেন।’’ মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘কান খুলে শুনে রাখুন, আপনাকে এ ভাবে হুমকি, বেপরোয়া, লাগামছাড়া কথা বলতে দেব না, দেব না, দেব না।’’এ ধরনের কথাবার্তা আর বলা যাবে না। হুমায়ুনকে ‘সংযত’ হতেও বলেন শুভেন্দু। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, তিনি শুভেন্দুকে কিছু বলেননি। তাকে গ্রেফতার করতে হলে করবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন