শায়েস্তাগঞ্জে নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি নেই

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি নেই। মাছ, মুরগি আর সবজির উচ্চমূল্যের কারণে মাসিক বাজেট ধরে চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় প্রয়োজনীয় পণ্যও বাদ দিয়ে ফিরতে হয়। গত রোববার সকালে শায়েস্তাগঞ্জের দাউদনগর বাজারে বাজার করতে এসে এসব কথা বলেন, বেসরকারি চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম। আরেক ক্রেতা রোকসানা বেগম বলেন, আগে অন্তত সবজি কিনে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেতো, কিন্তু এখন সেই সুযোগও নেই। প্রায় সবধরনের সবজির দামই বেশি। এ সপ্তাহেও শায়েস্তাগঞ্জের দাউদনগর বাজার, ড্রাইভার বাজার ও পুরানবাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপণ্যের দামে বড় কোনো পরিবর্তন না এলেও মাছ, মুরগি ও অধিকাংশ সবজির উচ্চমূল্য বহাল রয়েছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষ, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মিলিয়ে বাজার করতে হচ্ছে। বাজারে প্রায় সবধরনের সবজিই ৫০ থেকে ৬০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। গোল আলু, টমেটো, গোল বেগুন, লম্বা বেগুন, করলা, পটোল, লাউ, কাঁচা পেঁপে, শসা, গাজর, ফুলকপি, বরবটি, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙ্গা, কচুর লতি, ঢ্যাঁড়শ এবং বিভিন্ন ধরনের শাকের দাম আগের মতোই চড়া রয়েছে। বর্তমানে ঢ্যাঁড়শ, পটোল, ঝিঙ্গা, করলা ও চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁচকলার হালি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পিয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা এবং শিম ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। দাউদনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা মমিন মিয়া বলেন, আমাদের কাছে পাইকারি দামও খুব একটা কমেনি। তাই খুচরাপর্যায়ে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। মাছের বাজারেও একই চিত্র। পাঙাস মাছ কেজিপ্রতি ২০০ টাকা, বড় রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মাঝারি রুই ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা, কাতলা ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং শিং মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ক্রেতাদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এতে সীমিত আয়ের মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে পাবেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন