চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বিয়ের মাত্র দুই মাস পর এক নববধূর ৭ মাস ১৯ দিনের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ভুক্তভোগীর সাবেক প্রেমিক নিহাদ ইসলাম (২৪)কে আটক করেছে পুলিশ। মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার টামটা উত্তর ইউপি’র সুরসই গ্রামের এক তরুণীর প্রায় দুই মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে পরিবারের সদস্যরা তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, তিনি ৭ মাস ১৯ দিনের অন্তঃসত্ত্বা। পরে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে ওই নববধূ জানান, পার্শ্ববর্তী উয়ারুক গ্রামের লুতু মিয়ার ছেলে নিহাদ ইসলামের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রলোভনে নিহাদ দীর্ঘদিন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে নিহাদ তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি এলাকায় চাউর হলে নিহাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা জোরপূর্বক ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের কাছ থেকে একটি খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে নেন। অভিযুক্ত পরিবারের প্রভাবের কারণে প্রথমদিকে তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে সাহস পাননি। পরে বিষয়টি শাহরাস্তি মডেল থানার নজরে এলে পুলিশ ভুক্তভোগী পরিবারকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দেয়। এরপর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর মা বলেন, মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন আসামিপক্ষের হুমকি-ধমকির কারণে আমরা ভয়ে কাউকে কিছু জানাতে পারিনি। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিয়ের দুই মাসেই ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নববূধ, ধর্ষণ মামলায় প্রেমিক আটক
শাহরাস্তি (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
৩০ জুন (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
