সরকারকে ‘ভূতে পেয়েছে’, তাই উল্টোদিকে হাঁটছে: নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী

ফন্ট সাইজ:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, গত ১৭ বছরের অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে। অনেক বাবা তাঁর সন্তান হারিয়েছেন। এই মজলুম দলের মধ্যে বিএনপিও ছিল, জামায়াতে ইসলামীও ছিল। সকলের একটাই উদ্দেশ্য ছিল, বাংলাদেশে আমরা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পতন করব। খুনি হাসিনাকে বাংলাদেশে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসব। এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছি। আল্লাহ্ আমাদের বিজয় দান করেছেন। আমরা শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ থেকে তার দাদাবাবুদের দেশ ভারতে পালাতে বাধ্য করেছি। নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী গত রোববার (২৮শে জুন) সন্ধ্যায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বড়লেখা উপজেলা শাখার আয়োজনে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমাদের একটা সংস্কারের এজেন্ডা ছিল। সেটা নিয়ে পুরো বাংলাদেশে এগারো দল প্রত্যেক বিভাগে কর্মসূচি করেছে। আমরা গণতন্ত্রের কাছে গিয়ে জনগণের ওপর ভরসা করেছি। জনগণ নির্বাচনে এসেছে। তারা দু’টি ভোট দিয়েছে। একটি হলো- বাংলাদেশের আমূল পরিবর্তনের জন্য ভোট, আরেকটি হলো জনপ্রতিরোধী নিয়োগের জন্য ভোট। এই ১ হাজার ৪০০ ভাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে, হাজার হাজার মানুষের পঙ্গুত্ববরণের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ পরিবর্তনের জন্য, সংস্কারের জন্য গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের পর আমরা দেখলাম, ৭৫ শতাংশ মানুষের বিরুদ্ধে গিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে, সংস্কার প্রক্রিয়ার ভেতর না গিয়ে সরকারকে ভূতে পেয়েছে। এজন্য উল্টো দিকে হাঁটা শুরু করেছে। আমরা ১১ দল রাজপথে নেমেছি। সরকারকে যে ভূতে পেয়েছে, এই ভূত তাড়ানোর জন্য প্রত্যেক বিভাগে আমরা কর্মসূচি দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ্ আগামীতে আপনাদের সিলেট বিভাগে একটি মহাসমাবেশ হবে। আপনারা সবাই আসবেন। এনসিপি’র এই নেতা আরও বলেন, যদি বাংলাদেশে সংস্কার বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে আমরা এই সরকার পতনের দিকে যাবো, ইনশাআল্লাহ্। আমরা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করতে পারবো না। আমাদের যে ভাইয়ের হাত চলে গেছে, ওই হাতের সঙ্গে আমরা বেইমানি করতে পারবো না। সভায় বড়লেখা সদর ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশ, বড়লেখা উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর এমাদুল ইসলাম, বড়লেখা উপজেলা জামায়াতের পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক মোহাইমিন সালেহ, খেলাফত মজলিসের মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এমএম আতিকুর রহমান, পৌর জামায়াতের সাবেক নেতা প্রবাসী খিজির আহমদ, বড়লেখা সদর ইউপি জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি রবিউল ইসলাম সুহেল, এনসিপি’র মৌলভীবাজার জেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমদ প্রমুখ। নাসিরুদ্দীন আরও বলেন, ওবায়দুল কাদের বলেছিল, শেখ হাসিনার পতন হলে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে পাঁচ লাখ লোক মারা যাবে। আমরা কোনো প্রতিশোধে যাইনি। আমরা বলেছি, বাংলাদেশে বিচার বিভাগ আছে। আমরা বিচারে বিশ্বাসী। আপনি বিনা বিচারে ফাঁসি দিতে পারেন। কিন্তু আমরা বিচারের পক্ষে। ট্রাইব্যুনাল গঠন হয়েছে। শেখ হাসিনার ফাঁসি হয়েছে। আমরা এখন অপেক্ষায় আছি, কবে শেখ হাসিনাকে দেশে এনে জনগণের বিজয়ের মধ্য দিয়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে শহীদদের বদলা নেয়া হবে। এবং আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের সামনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এর আগে নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর আগমনকে ঘিরে বড়লেখা শহরে অবস্থান নেয় বিএনপি’র অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিকালে নাসিরুদ্দীন বড়লেখা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করতে গেলে শহরে প্রবেশের সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী ‘ভুয়া, ভুয়া’ সেøাগান দেন। পরে বড়লেখা শহরের বড়লেখা-কুলাউড়া সড়কের দক্ষিণবাজার এলাকায় বিএনপি’র অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তার গাড়িবহরের গতিরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন